kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

পিটার হান্ডকের নোবেল জয়ে সমালোচনার ঝড়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাহিত্যে অস্ট্রিয়ার নাট্যকার, ঔপন্যাসিক ও কবি পিটার হান্ডকের নোবেল পাওয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। এ সমালোচনায় অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানরাও। বিশেষ করে আলবেনিয়া, বসনিয়া ও কসোভো বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হান্ডকেকে তারা ‘বলকানের কসাই’ নামে কুখ্যাত সার্ব নেতা স্লোবোদান মিলোসেভিচের কট্টর সমর্থক বলে মনে করে।

এ ছাড়া এই অস্ট্রিয়ান লেখক ২০১৪ সালে নোবেল পুরস্কার বিলোপের বিতর্কিত দাবি তুলেও সমালোচিত ছিলেন। নব্বইয়ের দশকে যুগোস্লাভ যুদ্ধের সময় হান্ডকে সার্বদের সমর্থন দেন এবং তাদের পক্ষে জোর প্রচারণা চালান। ওই সময় তিনি সার্বদের অসহায় অবস্থার বর্ণনা করতে তাদের নািস সরকারের অধীনে ইহুদিদের সঙ্গে তুলনাও করেন। যদিও পরে তিনি তাঁর ওই বক্তব্য অস্বীকার করেছেন।

হান্ডকের ২০০৬ সালে মিলোসেভিচের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েও ব্যাপক বিতর্কিত হয়েছিলেন। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে বিচার চলার মাঝেই মিলোসেভিচের মৃত্যু হয়। এর আগে মিলোসেভিচ আদালতের কাছে তাঁর পক্ষের সাক্ষী হিসেবে হান্ডকেকে চেয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে হান্ডকের ভ্রমণকাহিনি ‘এ জার্নি টু দ্য রিভার্স : জাস্টিস ফর সার্বিয়া’ প্রকাশ পেলে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া বেলগ্রাদে ন্যাটোর বিমান হামলার প্রতিবাদে ১৯৯৯ সালে তিনি জার্মানির অভিজাত বুকার পুরস্কার ফিরিয়ে দেন। এভাবে একের পর এক বিতর্কের জন্ম দেওয়া ব্যক্তিকে নোবেল পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া তাই অনেকেই ভালোভাবে নেননি।

আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা টুইটারে লেখেন, ‘কখনো ভাবিনি নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম শুনে আমার বমি আসবে। নোবেল একাডেমির মতো একটি নৈতিক কর্তৃপক্ষ এ রকম অসম্মানজনক কাউকে বেছে নেবে, লজ্জাই এখন তাহলে নতুন মূল্যবোধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। না, আমাদের পক্ষে বর্ণবাদ এবং গণহত্যা নিয়ে এতটা অনুভূতিশূন্য হওয়া সম্ভব নয়।’

হান্ডকের নোবেল পুরস্কার পাওয়াকে ‘কলঙ্কিত এবং লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেন বসনিয়ার যৌথ প্রেসিডেন্সির মুসলমান সদস্য সেফিক জাফেরোভিচ। তিনি বলেন, ‘হান্ডকে কুখ্যাত সার্ব নেতা স্লোবোদান মিলোসেভিচের সমর্থন এবং তাঁকে সুরক্ষা দিয়েছেন জানার পরও নোবেল প্রাইস কমিটি কতটা সহজে ওই বিষয়গুলোর সঙ্গে আপস করেছে, যা সত্যিই লজ্জাজনক। অথচ মিলোসেভিচ, তাদের নেতা রদোভান কারাদজিক এবং তাদের সেনাপ্রধান রােকা ম্লাদিচকে গণহত্যাসহ সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধাপরাধের জন্য জাতিসংঘের একটি আদালত দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দিয়েছেন।’

কসোভোর প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচির টুইট, ‘হান্ডকেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুদ্ধের ভয়াবহতার শিকার অসংখ্য মানুষের জন্য অপরিসীম কষ্ট বয়ে নিয়ে এসেছে।’ সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা