kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

সিরীয় কুর্দিদের বিরুদ্ধে তুরস্কের সামরিক অভিযান

দুই দিনে পালিয়েছে ৬৪ হাজার মানুষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই দিনে পালিয়েছে ৬৪ হাজার মানুষ

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় তুরস্কের হামলা থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে গতকাল তাল তামর শহরে আশ্রয় নেয় হাজার হাজার সিরীয় আরব ও কুর্দি জনগণ। যাত্রাপথে গাড়ি থেকে অসহায় তাকিয়ে একটি শিশু। ছবি : এএফপি

সিরীয় কুর্দিদের বিরুদ্ধে তুরস্কের অভিযান শুরুর পর যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহারের পর সেখানকার কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় গত বুধবার থেকে সামরিক অভিযান শুরু করে তুরস্ক। আকাশ ও স্থলপথে একযোগ চলছে হামলা। অন্যদিকে কোনো বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই স্বল্প অস্ত্রে প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কুর্দি যোদ্ধারা। এ প্রতিরোধযুদ্ধ কয়দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ার অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানায়, এরই মধ্যে ১২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এবং ১১টি গ্রাম তুরস্কের দখলে চলে গেছে। তাল আবায়াদ শহরসহ কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় যুদ্ধের তীব্রতা বেশি।

এ যুদ্ধে এরই মধ্যে ১১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত ও ২৮ জন গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানায় কুর্দিশ রেড ক্রিসেন্ট। হতাহতদের মধ্যে শিশুও আছে। হতাহতের বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে সীমান্তবর্তী রাস আল আইন ও কামিশলি শহরে।

যুদ্ধে জড়িতদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এসওএইচআর জানায়, সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) ২৯ সদস্য নিহত হয়েছে। আর তুরস্কপন্থী সিরীয় বিদ্রোহী যোদ্ধাদের ১৭ সদস্য নিহত হয়েছে। এ ছাড়া এসডিএফ তাল আবায়াদ শহর পুনর্দখল করতে গেলে ওই যুদ্ধে তুরস্কপন্থী আরো সাতজন নিহত হয়। এ সময় একজন তুর্কি সেনাও নিহত হয়।

এদিকে তুরস্কের আনাদোলু সংবাদ সংস্থা গত বৃহস্পতিবার জানায়, তুর্কি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত ২২৮ কুর্দিকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করা হয়েছে। তুরস্কের তীব্র হামলা থেকে বাঁচতে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের মানুষ যে যেভাবে পারছে, পালাতে শুরু করেছে। ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি জানায়, এরই মধ্যে প্রায় ৬৪ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়েছে। সাহায্য সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এ সংখ্যা সাড়ে চার লাখে পৌঁছে যেতে পারে। এ ব্যাপারে ১৪টি মানবাধিকার সংগঠনের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের বাস। সব পক্ষ যদি ন্যূনতম সংযম না দেখায় এবং সাধারণ মানুষকে রক্ষায় প্রাধান্য না দেয়, তবে ওই সব মানুষ ঝুঁকিতে পড়বে।’

তুরস্কের এ হামলার নিন্দা জানিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা বিবৃতি দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলমান সহিসংতায় ‘গভীর উদ্বেগ’ জানান এবং পরিষদের ইউরোপীয় সদস্যরা তুরস্কের ‘একতরফা সামরিক অভিযান’ বন্ধের আহ্বান জানান।

এ ছাড়া সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিশ্বের অন্যতম সামরিক জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) মহাসচিব জেনারেল জেন্স স্টোল্টেনবার্গ তুরস্ককে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানান। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা