kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

ইথিওপিয়াকে ভিন্ন ছাঁচে গড়ার চেষ্টায় আবি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইথিওপিয়াকে ভিন্ন ছাঁচে গড়ার চেষ্টায় আবি

আবি আহমেদের বেড়ে ওঠা প্রত্যন্ত অঞ্চলে। তরুণ বয়সে রেডিও অপারেটর হিসেবে যোগ দেন সামরিক বাহিনীতে। এরপর সময় তাঁকে নিয়ে বসিয়েছে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আসনে। পুরো আফ্রিকার চেহারা বদলে দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর এই মানুষটির জীবনগল্পে গতকাল শুক্রবার বিকেলে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়। ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার।

৪৩ বছর বয়সী আবি আহমেদ ২০১৮ সালের এপ্রিলে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ‘চিরশত্রু’ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। মুক্ত করে দেন কারাবন্দি ভিন্নমতাবম্বীদের। ক্ষমা চান রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের জন্য। ‘সন্ত্রাসী’ তকমা দিয়ে যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আগের শাসকরা নির্বাসিত করেছিল, আবি আহমেদ তাদেরও স্বাগত জানান।

আগামী মে মাসে ইথিওপিয়ায় সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির রূপরেখা তৈরিতে ব্যস্ত আবি আহমেদ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাঁর উচ্চাবিলাসী অর্থনৈতিক রূপরেখার বাস্তবায়ন হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, আবি আহমদের নীতি প্রবীণ রাজনীতিবিদদের কাছে ‘বাড়াবাড়ি’ এবং মাত্রাতিরিক্ত গতিশীল মনে হচ্ছে। অন্যদিকে তরুণরা তাঁর পরিকল্পনাকে দেখছে ধীরগতি হিসেবে। এই চ্যালেঞ্জ থাকার পরও আবির সহযোগীরা বিশ্বাস করেন, স্বপ্ন বড় হওয়ার কারণেই আগামী নির্বাচনে ইথিওপিয়ার মানুষ তাঁকেই নেতা হিসেবে বেছে নেবে।

আবির বন্ধু ও ব্যবসায়ী তারেক সাবত বলেন, ‘আমি আমার বন্ধুদের প্রায়ই বলতাম, আবির প্রধানমন্ত্রী হলে ইথিওপিয়ার অনেক কিছুই বদলে যাবে।’

পশ্চিমাঞ্চলীয় বেশাশা এলাকায় মুসলিম বাবা আর খ্রিস্টান মায়ের ঘরে জন্ম আবি আহমেদের। আবির পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ছিল না বললেই চলে। রাতে ঘুমাতে হতো ঘরের মেঝেতে। বিদ্যুৎ কিংবা পানির সংযোগও ছিল না। গত মাসে স্থানীয় ‘শিগার এফএম’ নামের রেডিও চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবি বলেন, ‘আমরা বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুরের পানি ব্যবহার করতাম। সপ্তম শ্রেণিতে ওঠার আগ পর্যন্ত জানতাম না যে বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা পিচঢালা পথ দেখতে কেমন।’

১৯৯১ সালে সামরিক সরকারের কাছ থেকে দায়িত্ব নেয় এখনকার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক জোট ‘ইথিওপিয়ান পিপলস রেভল্যুশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (ইপিআরডিএফ)। দায়িত্ব নেওয়ার পরই ক্ষমতা কাঠামোতে পরিবর্তন আনে তারা। ওই পরিবর্তনের কারণেই আবির আহমেদের রাজনীতিতে আসা সহজ অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

তরুণ বয়সে প্রযুক্তির প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল আবি আহমেদের। সেই আগ্রহের কারণে রেডিও অপারেটর হিসেবে সামরিক বাহিনীতে চাকরি পান তিনি। সরকারে আসার আগে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদদর্যাদা ছিল তাঁর। আবি আহমেদকে প্রথমে করা হয় ইথিওপিয়ান সরকারের ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি এজেন্সির সাইবার-স্পাইং শাখার প্রধান। এরপর রাজধানী আদ্দিস আবাবার একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। সেই সঙ্গে দল থেকে দেওয়া নিজ এলাকা অরোমিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তার দায়িত্ব।

আবি আহমেদ যে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তার পট তৈরি হয় থাকে ২০১৫ সাল থেকে। ওই সময় রাজধানীর প্রশাসনিক এলাকার পরিধি বাড়ানোর একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এ জন্য অরোমিয়া অঞ্চলের আশপাশের এলাকায় শুরু হয় জমি অধিগ্রহণ। কিন্তু এ নিয়ে বিক্ষোভের ডাক দেয় স্থানীয়রা। সেই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয় দেশটির সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক গোষ্ঠী ‘অরোমো’। তাদের সঙ্গে ছিল আমরা জনগোষ্ঠীর সদস্যরাও। ওই সময় জরুরি অবস্থা এবং গণগ্রেপ্তার করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয় সরকার। শেষমেশ হেইলেমারিয়ান যখন পদত্যাগ করেন, তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিল, ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ইপিআরডিএফ জোট ভেঙে পড়বে। কিন্তু সেটা হয়নি; বরং জোটের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেয় আবি আহমেদকে।

মোহাম্মেদ আদেমো নামের স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, ‘ওই সময় আবি আহমেদই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ইপিআরডিএফকে রক্ষা করতে পারেন।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা