kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিরীয় কুর্দিদের ওপর তুরস্কের হামলা

সবুজ সংকেত দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র : পম্পেও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সবুজ সংকেত দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র : পম্পেও

তুরস্ক সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর যোদ্ধারা গতকাল তুরস্ক থেকে সিরিয়ার তেল আবায়াদে প্রবেশ করে (বাঁ পাশে)। যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে সিরিয়ার হাসাকেহ প্রদেশের রাস আল আইন শহরের অন্য বাসিন্দাদের মতো এ নারীও সন্তান নিয়ে পালান (ডান পাশে)। ছবি : এএফপি

সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সায় আছে, মার্কিন প্রশাসনের দিক থেকে প্রথমে এমন আভাস ছড়িয়ে পড়লেও এখন ক্রমাগত উল্টো সুরে গেয়ে চলেছেন শীর্ষস্থানীয় নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার চেয়ে ভয়ংকর পদক্ষেপ গ্রহণের হুমকি দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দাবি করেছেন, তুরস্কের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবুজ সংকেত’ প্রদানের যে খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটা ‘ডাহা মিথ্যা’। এর মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান তুর্কি বাহিনীর হামলায় শতাধিক সন্ত্রাসী নিহতের খবর জানিয়েছেন।

এরদোয়ানের সঙ্গে গত রবিবার ফোনালাপে ট্রাম্প সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকা থেকে কয়েক ডজন মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর আংকারা জানায়, তারা শিগগিরই সিরিয়ায় হামলা চালাবে। এরপর সংবামাধ্যমগুলো জানায়, সিরিয়ায় তুরস্কের হামলায় সবুজ সংকেত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ খবরে খোদ ট্রাম্পের দলের নেতারা কঠোর সমালোচনা করছেন।

এর মধ্যে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও দাবি করেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে সবুজ সংকেত দেয়নি।’ খবরটা ‘ডাহা মিথ্যা’, এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, সিরিয়ায় তুরস্কের হামলার ক্ষেত্রে কোনো অন্যায় করা হলে এরদোয়ানকে অর্থনৈতিকভাবে চরম মূল্য দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, তুরস্কের বিরুদ্ধে ‘নিষেধাজ্ঞার চেয়ে বড় কিছু’ করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

তুর্কি বাহিনীর হামলায় শতাধিক সন্ত্রাসী নিহত : সিরীয় কুর্দিদের বিরুদ্ধে তুরস্কের হামলার পরিস্থিতি সম্পর্কে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানান, এরই মধ্যে ১০৯ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। একে পার্টির সভায় তিনি আরো জানান, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় মানবিজ থেকে শুরু করে পূর্ব দিকে ইরাক সীমান্ত পর্যন্ত সাড়ে ৩০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তুর্কি বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হবে। হামলার লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের দক্ষিণ সীমান্তে সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম প্রতিরোধের চেষ্টায় আমরা এ অভিযান চালাচ্ছি।’

তুরস্কের এ অভিযানের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অবস্থানের সমালোচনা করে এরদোয়ান হুমকি দেন, ‘এই যে ইউরোপ, জাগো। আমি আবার বলছি, আপনারা যদি আমাদের অভিযানকে বহিরাক্রমণ হিসেবে প্রচারের চেষ্টা চালান, তবে আমরা খুব সহজ একটা কাজ করব। আমরা দরজা খুলে দেব এবং ৩৬ লাখ অভিবাসীকে আপনাদের কাছে পাঠিয়ে দেব।’ অভিবাসী প্রশ্নে ইইউর সঙ্গে তুরস্কের যে সমঝোতা হয়েছে, ইউরোপীয় জোট তা রক্ষায় কখনোই আন্তরিক নয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তুর্কি বাহিনীর হামলা প্রতিহতের দাবি এসডিএফের : সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) জানায়, সিরিয়ায় তুরস্কের হামলার প্রথম দিন গত বুধবার এবং গতকাল বৃহস্পতিবার তারা স্থল বাহিনীর দুটি হামলা প্রতিহত করেছে। এ ছাড়া কুর্দিশ রেড ক্রিসেন্ট জানায়, গত বুধবার তুর্কিদের হামলায় দুই শিশুসহ কমপক্ষে সাত সাধারণ নাগরিক নিহত ও কমপক্ষে ১৯ জন গুরুতর আহত হয়েছে। এরই মধ্যে সিরীয় কুর্দিদের লক্ষ্য করে ১৮১ জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনী।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা