kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

উইঘুর ইস্যু

চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর এবার ভিসা নিষেধাজ্ঞা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনা সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর এবার ভিসা নিষেধাজ্ঞা

চীনের ২৮টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, উইঘুর ও অন্য মুসলিমদের ওপর চীন সরকারের নিপীড়ন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র গত সোমবার চীনের ২৮টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে। চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর ওপর সরকারের নিপীড়নে ওই সব প্রতিষ্ঠানও জড়িত, এমন অভিযোগে সেগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই অভিযোগে চীনের বিরুদ্ধে আরো পদক্ষেপ গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্র।

গত মঙ্গলবার শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক মাইক পম্পেও টুইটারে লেখেন, ‘জিনজিয়াংয়ে ধর্ম ও সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করে দিতে অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে ১০ লাখ মুসলিমকে জোর করে আটক রেখেছে চীন। এ দানবীয় নজরদারি ও নিপীড়ন বন্ধ করে অবশ্যই বিধিবহির্ভূতভাবে আটক সবাইকে চীনের মুক্তি দিতে হবে এবং প্রবাসী চীনা মুসলিমদের ওপর বলপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে।’

বিবৃতিতে পম্পেও আরো জানান, জিনজিয়াংয়ে উইঘুর, কাজাখ অথবা অন্যান্য প্রতিনিধিত্বশীল মুসলিম নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নে জড়িত চীনের সরকারি কর্মকর্তা ও কমিউনিস্ট পার্টির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ওই সব চীনা কর্মকর্তার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদ্যদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে।

চীনের কোন কোন কর্মকর্তা ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন, সে তালিকা এখনো নিশ্চিত করেনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে জিনজিয়াংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান চেন কুয়াংগুয়োর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন আইন প্রণেতারা।

চীন অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উল্টো তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘পূর্বপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ’ করার অভিযোগ তুলেছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক টুইট বার্তায় বলা হয়, ‘চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীদের চারণক্ষেত্র ধ্বংস করার লক্ষ্যে জিনজিয়াংয়ে সন্ত্রাসবাদবিরোধী ও মৌলবাদবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ টুইটে দাবি করা হয়, চীন সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সরকারি আইন ও আন্তর্জাতিক নীতিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং তাতে জিনজিয়াংয়ের বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর ২৫ লাখ লোকের সবারই সমর্থন আছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, জিনজিয়াং প্রদেশের ১০ লাখ মুসলিমকে নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা  বন্ধ করে হান সম্প্রদায়ভুক্ত করে ফেলার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে চীন সরকার। এ লক্ষ্যে যেসব শিবির স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোকে সরকার কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র অভিহিত করেছে। এসব শিবিরের অস্তিত্ব অবশ্য প্রথমে অস্বীকার করেছিল কমিউনিস্ট সরকার। পরে তারা দাবি করে, ইসলামী চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ রোধে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো খোলা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উইঘুরদের রোজা না রাখতে দেওয়া এবং শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করার মতো নানা পদক্ষেপ বলপূর্বক কার্যকরের চেষ্টা করে যাচ্ছে চীন সরকার। বলা দরকার, নৃতাত্ত্বিকভাবে তুর্কি মুসলিম সম্প্রদায়ের এ সদস্যরা জিনজিয়াংয়ের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ। আর হান সম্প্রদায়ের সদস্য আছে ৪০ শতাংশ।

উইঘুর ও অন্য মুসলিমদের ওপর চীন সরকারের নিপীড়নের সমালোচনা করে গত জুলাইয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে এক চিঠিতে সই করে ২০টি দেশ। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা