kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

উইঘুর নিপীড়নের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভুক্ত চীনের ২৮ প্রতিষ্ঠান

এই অভিযোগ চীনের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার একটা অজুহাত মাত্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে দেশটির ২৮ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সরকারি ও বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠান এখন থেকে ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পণ্য কিনতে পারবে না। এদিকে উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে চীন।

কালো তালিকাভুক্ত হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই নজরদারি কিংবা নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বাজারজাত করে থাকে।

কালো তালিকাভুক্ত করার কারণ হিসেবে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এই ২৮ প্রতিষ্ঠান উইঘুর, কাজাখসসহ সংখ্যালঘু বিভিন্ন মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালানোর ঘটনায় সম্পৃক্ত।’

মানবাধিকারবিষয়ক একাধিক সংগঠনের দাবি, বন্দিশালা বানিয়ে উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষজনের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বেইজিং। আর বেইজিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্দিশালা নয়, এগুলো মূলত প্রশিক্ষণকেন্দ্র। ধর্মীয় চরমপন্থা মোকাবেলার অংশ হিসেবে এসব প্রশিক্ষণকেন্দ্র বানানো হয়েছে।

কালো তালিকাভুক্ত হওয়া ২৮টির মধ্যে ১৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মধ্যে জিনজিয়াং প্রদেশের জননিরাপত্তা ব্যুরোও আছে। আর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হিকভিশন, দাহুয়া টেকনোলজি ও মেগভি টেকনোলজির মতো বড় বড় কম্পানিও রয়েছে। এ তিনটি প্রতিষ্ঠানই মানুষের চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। এর মধ্যে হিকভিশন বিশ্বের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি।

কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। এর মধ্যে নতুন করে ওয়াশিংটন ২৮টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করল।

চলমান এই বিরোধ প্রশমনের লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে উভয় দেশের কর্মকর্তাদের। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে চীনের প্রযুক্তি খাত স্বল্প মেয়াদে হলেও লোকসানের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। গতকাল দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং বলেন, ‘জিনজিয়াং প্রদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথাকথিত যে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র তুলেছে, তা ভিত্তিহীন। এই অভিযোগ চীনের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার একটা অজুহাত মাত্র।’

গত কয়েক বছর পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে কয়েক দফা অভিযান চালায় চীন। জাতিসংঘসহ একাধিক মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে উইঘুরসহ সংখ্যালঘু বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ১০ লাখের বেশি সদস্যকে বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছে। অভিযোগ আছে, সেখানে উইঘুর সদস্যদের ইসলাম ধর্ম ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। জোর করে শেখানো হচ্ছে মান্দারিন ভাষা এবং কমিউনিস্ট মতাদর্শ। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা