kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

প্রয়োজনে চুক্তিহীন বিচ্ছেদ চান জনসন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মনে করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাঁর পাঠানো প্রস্তাব ব্যর্থ হবে। তবে ব্রেক্সিট যাতে বিলম্ব না হয় তার জন্য তিনি সর্বোচ চেষ্টা করবেন। দেশটির সরকারি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য স্পেক্টেটর ম্যাগাজিন।

জনসনের ডাউনিং অফিস সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় ইইউ সম্মেলনে ব্রেক্সিট বিলম্বের জন্য সর্বশেষ সুযোগ আছে। জনসনের প্রস্তাব ব্যর্থ হলে তিনি ফের তা আর পাঠাবেন না।

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের সমর্থক ওই ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ফের প্রস্তাব না পাঠিয়ে জনসন ‘চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের’ জন্য প্রচার চালাবেন। এর ফলে আগাম নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সূত্র বলছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তিটির মৃত্যু হলে তা আর ফিরবে না। দ্রুত ব্রেক্সিট কার্যকর করে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এর আগে ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই ভেবেছিলেন, টেরেসা সরে গেলে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

ডাউনিং স্ট্রিট এসব তথ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, আবার বাতিলও করেনি।

২০১৬ সালের গণভোটের রায় অনুযায়ী ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার কথা, যা ব্রেক্সিট নামে পরিচিত। কিন্তু পার্লামেন্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের প্রস্তাবিত ব্রেক্সিট চুক্তি তিনবার উত্থাপন করা হলেও প্রতিবারই তা নাকচ হয়ে যায়। এরপর তিনি ইইউর কাছ থেকে ব্রেক্সিটের সময়সীমা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়ে নেন। ছেড়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর পদ। আর ব্রেক্সিটের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন বরিস জনসন। তিনি চাইছেন, আগামী ৩১ অক্টোবরেই বিচ্ছেদ কার্যকর করতে।

আগামী ১৭-১৮ অক্টোবর ইইউ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ঐকমত্যে না পৌঁছালে জনসন বিচ্ছেদের জন্য নতুন ধরনের সুযোগ পেতে পারেন। কারণ ১৯ অক্টোবর থেকে ব্রেক্সিট বিলম্বের আবেদনের সুযোগ নেই। অন্যদিকে ওই বিলম্বের জন্য জনসন যাতে আবদন করেন, সে লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি আইন পাস হয়েছে। কিন্তু সম্মেলন শেষ হওয়ার পর আবেদনের যেমন সুযোগ থাকবে না, তেমনই ব্রেক্সিট বিলম্বের জন্য আবেদন করার আইনি বাধ্যবাধকতার ঠিক কী হবে, তা আদৌ পরিষ্কার নয়।

গত বুধবার জনসন ব্রেক্সিটের নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, যাতে আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে শক্তিশালী সীমান্তব্যবস্থা এড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

ডাউনিং অফিস সূত্র জানিয়েছে, আমরা গোপনীয় ও প্রকাশ্যভাবে বলতে চাই, যেসব দেশ ব্রেক্সিট বিলম্ব চায় না, ভবিষ্যতে তারা সহযোগিতার জন্য সামনের সারিতে থাকবে। আর যারা বিলম্বকে সমর্থন করছে, তারা সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিচের সারিতে থাকবে। এই সহযোগিতার মধ্যে নিরাপত্তা ইস্যুও থাকবে। আমরা এও পরিষ্কার করতে চাই, এই সরকার আর আলোচনায় বসবে না, তাই বিলম্ব করাটা সম্পূর্ণ অর্থহীন হবে।

ওই সূত্র আরো বলছে, ‘আমরা আগামী ৩১ অক্টোবর চুক্তিহীন বিচ্ছেদ করব অথবা এ বিষয়ে একটি নির্বাচন করে বিচ্ছেদ কার্যকর করা হবে।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা