kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

‘ঐতিহাসিক’ সমাবেশে ট্রাম্প-মোদির উষ্ণ বন্ধুত্বের প্রদর্শনী

হোয়াইট হাউসে ভারতের সত্যিকারের মিত্র অবস্থান করছেন — মোদি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ঐতিহাসিক’ সমাবেশে ট্রাম্প-মোদির উষ্ণ বন্ধুত্বের প্রদর্শনী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার টেক্সাসের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘হাউডি মোদি’ জনসভায় অংশ নেন। ছবি : এএফপি

বড় সমাবেশ, বিপুল জনসমাগম, প্রশংসায় ভাসিয়ে দেওয়া বক্তব্য এবং টেক্সাসের গরম আবহাওয়া—এর সবই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত পছন্দের। এর সব শর্ত পূরণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন ট্রাম্পকে মঞ্চে টেনে আনেন তখন তা হয়ে ওঠে দুই নেতার উষ্ণ বন্ধুত্ব প্রদশর্নীর এক দুর্দান্ত ক্ষেত্র। টেক্সাসের হিউস্টন গত রবিবার তেমনই একটি প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করল। ‘হাউডি মোদি’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন মূলত নরেন্দ্র মোদিকে কেন্দ্র করে। তবে এই সমাবেশের ‘চার চাঁদ’ প্রাপ্তি হয় ট্রাম্পের উপস্থিতির পরই।

প্রায় ৫০ হাজার জনসমাগমের এই সমাবেশ ট্রাম্পের দৃষ্টিতে ‘ঐতিহাসিক’ ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনায়ককে সংবর্ধনার এত বড় আয়োজন আগে কখনো হয়নি। এ সমাবেশ থেকে দুই নেতা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার ঘোষণা দেন। ঘনিষ্ঠ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখার ঐকান্তিক ইচ্ছার কথাও জানান তাঁরা।

তবে রবিবার হিউস্টন মোদিকে যতটা উষ্ণতামাখা সংর্বধনা দিয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঠিক ততটাই শীতল পরিবেশ পাবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করেছেন মোদি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেশী পাকিস্তানে সঙ্গে তাদের উত্তেজনা চরম অবস্থায় পৌঁছে গেছে। কাশ্মীর ইস্যু সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উঠবে এবং এ নিয়ে প্রশ্নের মুখেও পড়তে হবে মোদিকে। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এই অধিবেশনে যোগ দেবেন এবং ভাষণ দেবেন। আগে থেকেই তিনি জানিয়ে রেখেছেন, তাঁর এবারের জাতিসংঘ সফরের মূল লক্ষ্যই ‘মিশন কাশ্মীর’। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন ধরে হোমওয়ার্কও করেছেন ইমরান। ফলে মোদির এবারের নিউ ইয়র্ক সফরের শুরুটা যতই মধুর হোক না কেন, শেষটুকু কেমন হবে তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

রবিবারের অনুষ্ঠানটি স্থায়ী হয় ৯০ মিনিট। অংশ নেন ৪০০ পারফরমার। মঞ্চে ওঠার পর ট্রাম্প বলেন, ‘আমি টেক্সাসে আসতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অনুগত ও বিশ্বস্ত বন্ধু মোদির সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগাভাগি করতে পেরে আমার আনন্দ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।’ এ সময় মোদি বলেন, ‘হোয়াইট হাউসে ভারতের সত্যিকারের মিত্র অবস্থান করছেন।’ তিনি ট্রাম্পকে ‘উষ্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ, সহজে যোগাযোগ করা যায়, উদ্যমী ও বুদ্ধিমান হিসেবে অভিহিত করেন।’ মোদি আরো বলেন, ‘প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার ইন চিফ, বোর্ড রুম থেকে ওভাল অফিস, স্টুডিও থেকে বিশ্বমঞ্চ—সব ক্ষেত্রে নিজের দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে চলেছেন ট্রাম্প।’

এ সময় সমমনা এ দুই নেতা (দুজনই বিশাল সমাবেশ পছন্দ করেন, প্রথাগত গণমাধ্যম তাঁদের চক্ষুশূল হলেও টুইটে দুজনই তুখোড়, পরস্পরকে প্রশংসায় ভাসানোও তাঁদের অন্যতম পছন্দনীয় কাজ) সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার ঘোষণা দেন। দর্শক সারির বেশির ভাগ মানুষই ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির গেরুয়া বসন পরে সমাবেশে অংশ নেয়। এই সুবিশাল দর্শকের সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘আমরা কট্টর ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীদের হুমকি থেকে নিরীহ বেসামরিক জনগণকে রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’ সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা