kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে থানবার্গ

আপনাদের ভালো লাগুক আর না লাগুক, পরিবর্তন আসছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বজুড়ে স্কুলশিক্ষার্থীসহ প্রায় ৪০ লাখ মানুষের যে জোয়ার গত শুক্রবার দেখা গেছে, সেটা ছিল স্রেফ শুরু—এমনটাই বলেছে সুইডিশ পরিবেশবাদী কিশোরী গ্রেটা থানর্বাগ, সেই সঙ্গে সে শিগগিরই আরো বড় ধরনের পরিবর্তনের ব্যাপারে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে বিশ্বনেতারা বাগাড়ম্বর বাদ দিয়ে যেন এখনই ব্যবস্থা নেন, সে জন্য গত শুক্রবার বিশ্বজুড়ে রাস্তায় নামে বিপুলসংখ্যক স্কুলশিক্ষার্থী। এক দিনের স্কুল কামাই দিয়ে বিক্ষোভে নামা শিশু-কিশোরদের সঙ্গী হন বড়রাও। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করে বলে জানায় আয়োজকরা। সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, উষ্ণায়ন থেকে এ গ্রহকে রক্ষায় এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে গত শুক্রবার।

ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তাল রেখে বিক্ষোভের এ জোয়ার অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু হয়ে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রায় এক হাজার ৮০০ স্কুলের শিক্ষার্থীকে বিক্ষোভে যোগদানের উদ্দেশ্যে স্কুলে অনুপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এসব শিক্ষার্থীসহ গত শুক্রবার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ এ শহরে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানোর প্রচেষ্টায় শামিল হয়।

নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ষোড়শী থানবার্গ। এক বছর ধরে ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ আন্দোলন চালিয়ে আসা এ কিশোরীর আহ্বানে সাড়া দিয়েই সারা বিশ্বের পরিবেশবাদীরা গত শুক্রবার বিক্ষোভ করে। এদিন নিউ ইয়র্কের সমাবেশে যোগ দিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে খুদে এ পরিবেশবাদী কঠোর বক্তব্য দেয়। সে বলে, ‘বড়রা আমাদের সঙ্গে সেলফি তুলবে এবং তারা আন্তরিকভাবে আমাদের কাজের প্রশংসা করবে, সে জন্য আমরা পড়ালেখা বিসর্জন দিয়ে রাস্তায় নামিনি। বিশ্বনেতাদের জাগানোর জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি, কারণ একটা নিরাপদ ভবিষ্যৎ আমাদের অধিকার।’ বড়দের ‘ছোট্ট’ দলটি তাদের কারণে এখন ভীত, এমন মন্তব্য করে সে বলে, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য খুব খারাপ খবর আছে—এটা সবে শুরু। তাঁদের ভালো লাগুক আর না-ই লাগুক, পরিবর্তন আসছে।’

স্কুল ফেলে শিশু-কিশোরদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে থানবার্গ বলে, ‘ক্ষমতাবানরা যেখানে শিক্ষিতদের কথা শোনে না, সেখানে নিজেদের শিক্ষিত করে তোলা বা সত্য জানার সার্থকতা কোথায়? আমি যেখান থেকে এসেছি, সেখানকার পরিস্থিতি এখানকার চেয়ে ভিন্ন। তবে জলবায়ু ও পরিবেশের জরুরি অবস্থার প্রশ্নে সব জায়গার পরিস্থিতি প্রায় একই রকম।’

গত শুক্রবার এক সফল বিক্ষোভের পর গতকাল শনিবার থানবার্গের নেতৃত্বে ৫০০ তরুণ পরিবেশবাদী জাতিসংঘে এই প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘যুব জলবায়ু সম্মেলনে’ যোগ দেয়।

মার্কেলের নতুন অঙ্গীকার : এদিকে গত শুক্রবার জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল অঙ্গীকার করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনরোধী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ১০ হাজার কোটি ইউরো ব্যয় করা হবে। জ্বালানি ও শিল্প খাত থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের হার কমিয়ে আনতে, জ্বালানিনির্ভর গাড়ির পরিবর্তে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে এবং বিমানের পরিবর্তে ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা বাড়াতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই বিপুল অর্থ ব্যয় করা হবে বলে তিনি জানান। সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা