kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সৌদি আরবে হামলার ঝুঁকি ইরান কেন নেবে?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌদি আরবের দাবি, তাদের তেল শোধনাগারের ওপর ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পেছনে যে ইরান রয়েছে, এ ব্যাপারে উপযুক্ত প্রমাণও তাদের হাতে আছে। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ নিয়ে কি ওই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যেতে পারে?

যে মাত্রায় হামলার ঘটনাটি ঘটেছে, সৌদি আরব তা কোনোমতেই এড়িয়ে যেতে পারবে না এবং ইরানই যে ওই হামলার জন্য দায়ী, সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর পর সৌদি আরবকে একটা পাল্টা জবাব দিতেই হবে। ওই হামলার ঘটনাটি জাতিসংঘ এখন তদন্ত করে দেখছে। সেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সৌদি সরকার সম্ভবত অপেক্ষা করবে।

বাজির খেলায় ইরান : ইরানের তরফ থেকে ওই হামলার দায়দায়িত্ব শুধু অস্বীকার করলেই যথেষ্ট হবে না। সৌদি বলছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দিক হিসাব করলে বোঝা যাবে সেটা ইয়েমেন থেকে আসতে পারে না। সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো বিশ্বাস করে, ইরান এ বিষয়ে তাদের বাজির মাত্রা বাড়াতে চায় এই লক্ষ্যে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

গত বছর ইরানের সঙ্গে একটি পরমাণু চুক্তি ট্রাম্প একতরফাভাবে প্রত্যাহার করেন এবং নতুন করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ইরানের নেতারা আশা করছেন, পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়লে বিশ্বনেতারা টের পাবেন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। এ ছাড়া চুক্তি মানলে ফ্রান্সের কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার ঋণ সুবিধা পাওয়ার আশাও ছিল তাদের। কিন্তু ট্রাম্প তা হতে দেননি। শুধু তা-ই নয়, গত বুধবার ট্রাম্প ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেন।

ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি : ইরানের তেল রপ্তানি এখন শূন্যের কোঠায়। তাদের অর্থের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এখন যা বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে তা দিয়ে মাত্র কয়েক মাস চলবে। ইরানি মুদ্রার মান কমে আসার ফলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ। ফলে ইরানিদের ক্রয়ক্ষমতা প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে।

সৌদি আরব কি সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে? : তেমন আশঙ্কা কম বলেই মনে হচ্ছে। ইরানের জনসংখ্যা এখন আট কোটি। অন্যদিকে সৌদি আরবের জনসংখ্যা ৩.৩ কোটি। ইরান তার অস্ত্রভাণ্ডারে হাজার হাজার মিসাইল মজুদ রেখেছে। সৌদি তেলক্ষেত্র, শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি এবং জনবহুল শহরগুলো এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তুলনামূলকভাবে সৌদি আরবের অস্ত্রভাণ্ডারে শত শত চীনা মিসাইল থাকলেও তাদের মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ দুর্বল। সৌদি বিমানবাহিনীতে জঙ্গিবিমানের সংখ্যা ইরানের প্রায় সমান। তবে সৌদি বিমানগুলো বেশ আধুনিক এবং কার্যকর। অন্যদিকে ইরানের বিমানবাহিনীর জঙ্গিবিমানগুলো বেশ পুরনো এবং অদক্ষ।

পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্ররা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সৌদি আরবের শিয়া জনগোষ্ঠীর সমর্থনও ইরান পাবে। তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা, বিমান এবং নৌবহর মোতায়েন থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে নারাজ। কারণ লড়াই শুরু হলে মার্কিন সেনাঘাঁটি এবং নৌবহরগুলো ইরানি হামলার ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। এ ছাড়া বিশ্বের সর্বমোট তেল চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেটিও তখন যুদ্ধের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা