kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

জাতিসংঘের প্রতিবেদন

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতির অপেক্ষায় বিশ্ব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতির অপেক্ষায় বিশ্ব

জলবায়ু পরিবর্তনরোধী আন্দোলন জোরদার করতে গতকাল বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভ করে লাখ লাখ স্কুলশিক্ষার্থী। (বাঁয়ে) ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীর হাতে শোভা পায় ‘সমাধান চাই, দূষণ নয়’ শীর্ষক প্লাকার্ড। (ডানে) উগান্ডার ওয়াকিসো শহরে কোমলমতি শিশুরা হাতে করে আনা প্লাকার্ড বিছিয়ে শুয়ে পড়ে। ছবি : এএফপি

জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে সাগর ও হিমায়িত অঞ্চল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। কার্বন নিঃসরণের হার বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। জাতিসংঘের ইন্টারগভর্মেন্টাল প্যানেল অব ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) খসড়া প্রতিবেদনে উঠে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের নানা দিক। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিতব্য এ প্রতিবেদনের চুম্বক অংশ জেনে নেওয়া যাক—

সমুদ্রের উষ্ণায়ন

মাত্রারিক্ত তাপ শোষণ : মনুষ্যসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের এক-চতুর্থাংশ এবং বায়ুমণ্ডলে সৃষ্ট অতিরিক্ত তাপের ৯৩ শতাংশ গ্রহণ করে মহাসাগর। ফলে ক্রমাগতভাবে সমুদ্র উষ্ণতর ও অ্যাসিডিক হয়ে উঠছে; কমে যাচ্ছে লবণাক্ততা।

দাবদাহ : সামুদ্রিক দাবদাহের মাত্রা, তীব্রতা ও সীমা বেড়েছে। যেমন—অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের প্রাণ-প্রতিবেশ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। আশির দশকের তুলনায় সামুদ্রিক দাবদাহ দ্বিগুণ হয়েছে।

এল নিনো :  মারাত্মক এল নিনোর কারণে বনে অগ্নিকাণ্ড, রোগের প্রাদুর্ভাব ও ঘুর্ণিঝড়ের মাত্রা বেড়ে যায়। কার্বন নিঃসরণের হার না কমলে এল নিনোর প্রভাব দ্বিগুণ হবে।

খাদ্যসংস্থান : উষ্ণতা ও অ্যাসিডিফিকেশনের কারণে ২১০০ সাল নাগাদ অগভীর গ্রীষ্মণ্ডলীয় পানি থেকে খাদ্য সরবরাহ ৪০ শতাংশ কমে আসবে।

কিছু সামুদ্রিক প্রাণী উপযুক্ত তাপমাত্রার খোঁজে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে সরে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের ওপর।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা

সমুদ্রপৃষ্ঠ : প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় বিশ্বের গড় তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে ১৯৮০-২০০০ সালের তুলনায় ২১০০ সালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অর্ধমিটার বেড়ে যাবে। দ্বাবিংশ শতাব্দীতে প্রতিবছর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে কয়েক সেন্টিমিটার করে।

এমনকি বৈশ্বিক তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হলেও সমুদ্রপৃষ্ঠোর উচ্চতা বেড়ে গিয়ে বহু এলাকা তলিয়ে যাবে। এতে বতর্মান সময়ের ২৮ কোটি মানুষ ঘর হারাবে।

বন্যার ক্ষয়ক্ষতি : বড় ধরনের অভিযোজন প্রচেষ্টা নেওয়া না হলে ২১০০ সালে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ১০০ থেকে ১০০০ গুণ বেড়ে যাবে।

অভিযোজন : সমুদ্রপৃষ্ঠ বাড়ার কারণে সব উপকূলীয় অঞ্চলের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে হবে। ধনী দেশগুলো বাঁধ তৈরি করতে বাধ্য হবে; উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ উঁচু স্থানে আশ্রয় নেবে।

জলাভূমি : সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্বের ২০ থেকে ৯০ শতাংশ উপকূলীয় জলাভূমি হারিয়ে যাবে।

সমুদ্র মরণ

অক্সিজেন : সামুদ্রিক পরিবেশে জীবনদানকারী অক্সিজেনের ঘনত্ব ৬০ বছরে ২ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে যে হারে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, তাতে করে ২১০০ সাল নাগাদ অক্সিজেনের ঘনত্ব আরো ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমে যাবে। ২০ বছরের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠে অক্সিজেনের স্তর ৫৯-৮০ শতাংশ কমে যাবে।

মৃত্যুপুরী : উপকূলীয় দূষণ ও পানি উষ্ণায়নের কারণে অক্সিজেন ক্ষয়প্রাপ্ত বিশাল মৃত্যুপুরী তৈরি হচ্ছে।

প্রবাল : বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা যদি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসও হয় ৯০ শতাংশ প্রবাল প্রাচীর হারিয়ে যাবে। আর তাপমাত্রা যদি দুই ডিগ্রি বাড়ে তাহলে প্রবালের হদিসও মিলবে না। অথচ এর ওপর নির্ভর করে বর্তমানে ৫০ কোটি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে।

বরফের গলন

বরফ চাদর : ২০০৬ সাল থেকে বিশ্বের দুই বরফ চাদর গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকা থেকে ৪৩০ বিলিয়ন টন বরফ গলছে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার মূল কারণ।

হিমবাহ : বেশির ভাগ পর্বত অঞ্চলের হিমবাহ গলছে। ২১০০ সাল নাগাদ ককেশাস পর্বতমালা এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ৮০ শতাংশ হিমবাহ গলে যাবে। বর্তমানে ২০০ কোটিরও বেশি মানুষ মিঠা পানির জন্য হিমবাহের ওপর নির্ভরশীল।

তুষার : পাহাড় হারাবে তুষার আবরণ। কৃষি, জ্বালানি সরবরাহ ও পর্যটনের জন্য সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা