kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

গবেষণা প্রতিবেদন

১০ বছরে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অর্ধেক কমানো সম্ভব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১০ বছরে গ্রিনহাউস গ্যাস  নির্গমন অর্ধেক কমানো সম্ভব

গ্রিসের মেসিডোনিয়ায় পানিশূন্য হয়ে পড়া হ্রদে মাছগুলোর এমন দশাই হয়েছে। চলতি খরা মৌসুমে এমনিতেই পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, তার ওপর প্রচণ্ড তাপমাত্রা অব্যাহত থাকায় বাষ্প হয়ে গেছে আরো অনেক পানি আর সেই সঙ্গে ভেঙে পড়েছে পানি সরবরাহব্যবস্থা। সব মিলিয়ে হাজার হাজার মাছের এ পরিণতি হয়। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : এএফপি

পৃথিবী রক্ষায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনার বিষয়ে একক কোনো উপায় নেই বিজ্ঞানীদের কাছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগই মূলকথা। এ বিষয়টিকে সামনে রেখে একদল গবেষক জলবায়ু পরিবর্তন রোধে একটি গুচ্ছ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, যাতে প্রযুক্তি ও আচরণগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সুধীসমাজের ভূমিকাকে বড় উপায় বলে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব, যদি আগামী দশকে অল্প পরিমাণে চলমান প্রযুক্তি ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকে এগিয়ে নেওয়া যায় এবং সেটা মেনে চলা যায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার এবটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদলের প্রকাশ করা ‘এক্সপোনেনসিয়াল রোডম্যাপ প্রতিবেদনে’ এই পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞানী, এরিকসনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবক, শিল্প-প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিল ও মিশন-২০২০-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিওর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা  উদ্যোগ ‘এক্সপোনেনসিয়াল রোডম্যাপ’ নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন মতে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌর ও বায়ু জ্বালানি এখন জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে সস্তা। তাই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবর্তে অবশ্যই অতি দ্রুত সৌর ও বায়ু জ্বালানি গ্রহণ করতে হবে। শুধু এই একটি উদ্যোগের ফলেই ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে গ্রিনহাউস গ্যাস অর্ধেক নামিয়ে আনা সম্ভব।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুতগতিতে ইলেকট্রিক যানবাহন চালু করা যায়, তাহলে তা হবে একটি টেকসই উপায়। কারণ ২০৩০ সালের মধ্যে এ ধরনের যানবাহনের ৯০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব, যাতে বিপুল পরিমাণে পরিবহন খাতের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো সম্ভব।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বনাঞ্চল উজার রোধ ও ভূমি সুরক্ষার কথা প্রায়ই বলা হয়। গবেষকদের মতে, এ দুটি কাজ করতে পারলে শুধু এক বছরেই ৯০০ কোটি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করা সম্ভব। তবে অসংগত ভর্তুকি, দুর্বল পরিকল্পনা ও কায়েমী স্বার্থ এই উদ্যোগকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে।

গবেষকদের মতে, যেকোনো ধরনের রূপান্তর সামাজিক আন্দোলন তৈরি করতে পারে। আর এটা হতে পারে জলবায়ু ক্ষতির মুখে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের একটি সামাজিক চাপ। তাই অতিরিক্ত মাংস ভক্ষণের মতো আচরণগত পরিবর্তন এবং সরকার ও কম্পানিগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধিতে সামাজিক আন্দোলনের বড় শক্তি রয়েছে।

এ বিষয়ে জাতিসংঘের সাবেক জলবায়ু কর্মকর্তা ক্রিস্টিনা ফিগার্স বলেন, ‘আমি দেখেছি সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন এক জায়গায় এসে মিলেছে। আমরা এখন বলতে পারি, আগামী এক দশক হবে ইতিহাসের দ্রুততম অর্থনৈতিক রূপান্তরের দশক।’

এই অবস্থায় এক্সপোনেনসিয়াল রোডম্যাপ গবেষকরা ৩৬টি উপায় তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, উল্লিখিত উপায়গুলো ছাড়াও খাদ্য উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নগর পরিকল্পনা ও জাহাজ চলাচলের মতো আন্তর্জাতিক পরিবহনব্যবস্থা সব খাত থেকেই গ্রিনহাউস নিঃসরণ কমানো সম্ভব। সব ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ নেওয়া গেলে ২০৩০ সালের মধ্যেই অবশ্যই গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমণ অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব।

সব যত উদ্যোগ নেওয়া হোক না কেন, সামাজিক আন্দোলনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ ভোক্তরা কম্পানিগুলোকে চাপ দিতে পারে এবং জনসমর্থন রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগকে সহজ করে তুলতে পারে। এসব কারণেই যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইডেন ও নরওয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এই প্রতিবেদনের সহযোগী লেখক এবং এক্সপোনেনসিয়াল রোডম্যাপ উদ্যোগের অন্যতম অংশীদারি প্রতিষ্ঠান স্টোকহোম রেজিলিয়েন্স সেন্টারের পরিচালক ওয়েন গ্যাফিনি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ফেসবুক, অ্যামাজন ও গুগলের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র : গার্ডিয়ান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা