kalerkantho

ভিসানীতির পরিবর্তন

ডিগ্রি শেষে আরো দুই বছর ব্রিটেনে থাকার সুযোগ বিদেশি ছাত্রদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় জানিয়েছে যে সরকারের নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী বিদেশি শিক্ষার্থীরা স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর কর্মসংস্থানের জন্য দুই বছর যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন। সরকারের এ ঘোষণায় ২০১২ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরেসা মের নেওয়া সিদ্ধান্তকে পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। টেরেসা নিয়ম করেছিলেন যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার মাসের বেশি ব্রিটেনে অবস্থান করতে পারবেন না।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, নতুন পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের নিজেদের সক্ষমতা বুঝতে এবং যুক্তরাজ্যে নিজেদের পেশা গড়ে নিতে সহায়ক হবে। কিন্তু মাইগ্রেশন ওয়াচ নামে একটি প্রচারণা গোষ্ঠী এই পদক্ষেপকে ‘পশ্চাত্মুখী’ বলে উল্লেখ করেছে।

যেসব শিক্ষার্থী আগামী বছর থেকে যুক্তরাজ্যে স্নাতক পর্যায়ে কিংবা তার থেকে উঁচু কোনো ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা শুরু করবেন তাঁরা এই পরিবর্তিত নিয়মের সুযোগ পাবেন। কিন্তু এখানে শর্ত থাকবে তাঁরা যেনতেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন না। শুধু সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাবেন, যাদের ভর্তির ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে মানার ইতিহাস রয়েছে

সরকারের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো, যখন একই দিনে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি জেনেটিক প্রকল্প চালু করা হলো। এই প্রকল্পটি শুরু হচ্ছে ইউকে বায়োব্যাংক নামে একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক দাতব্য সংস্থার অধীনে, যাদের কাছে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের জেনেটিক তথ্য ও নমুনা রয়েছে। বায়োব্যাংকটি কয়েক বছর ধরে ব্রিটিশ স্বেচ্ছাসেবকের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা এবং তথ্য সংগ্রহ করেছে, যা এখন বিশ্বের সব গবেষকের জন্য উন্মুক্ত।

রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন ওষুধ আবিষ্কারের জন্য গবেষকরা এই তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার ‘গর্বিত ইতিহাস’ রয়েছে ব্রিটেনের। তিনি বলেন, ‘এখন বিশ্বের বৃহত্তম জেনেটিক গবেষণা প্রকল্পে কাজ করতে পুরো বিশ্ব থেকে বিশেষজ্ঞদের এক করছি আমরা যাতে প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় উন্নত পদ্ধতি আবিষ্কার তথা প্রাণ বাঁচানো সহজ হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বের উজ্জ্বল এবং মেধাবীদের জন্য যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা আর কাজ করার জন্য সুবিধা উন্মুক্ত না হলে এটি অর্জন করা সম্ভব হবে না। আর এ জন্যই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের সক্ষমতা চিহ্নিত করা এবং যুক্তরাজ্যে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিতে নতুন রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।’

ইউনিভার্সিটিস ইউকের প্রধান নির্বাহী অ্যালেস্টার জারভিস এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে লাভবান করবে এবং উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাজ্যের সুনাম ফিরিয়ে আনবে। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের জন্য ইতিবাচক সামাজিক প্রভাব বয়ে আনে বলে প্রমাণ রয়েছে। সঙ্গে অর্থনীতিতে যোগ করেছে ২৬ বিলিয়ন পাউন্ড। কিন্তু বেশ দীর্ঘ সময় ধরে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ না থাকায় যুক্তরাজ্য এসব শিক্ষার্থীর আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।’ সূত্র : বিবিসি।

 

মন্তব্য