kalerkantho

ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাব রুহানির প্রত্যাখ্যান

‘যুদ্ধবাজ’ বোল্টনের বিদায়

স্বাগত জানিয়েছে ইরান-উত্তর কোরিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘যুদ্ধবাজ’ বোল্টনের বিদায়

টানা ১৯ মাস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে ‘দৃঢ়ভাবে’ ভূমিকা পালনের পর বিদায় নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধবাজ’ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। তবে তিনি বিদায় (পদত্যাগ) নিয়েছেন, নাকি তাঁকে বিদায় (বরখাস্ত) করা হয়েছে তা নিশ্চিত নয়। যদিও দুই ক্ষেত্রের ‘ফলপ্রাপ্তি’ অভিন্ন। যা নিয়ে এরই মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইরান ও উত্তর কোরিয়া। ঘটনা ঘটিয়ে ফেলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টও অবশ্য হাত গুটিয়ে বসে নেই। আকার-ইঙ্গিত নয়, স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ মাসের শেষ দিকে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে বসতে চান। যদিও এর নেতিবাচক জবাব দিয়েছেন রুহানি। অন্যদিকে বোল্টনের বিদায়ে আলোচনা ফের শুরুর আগ্রহ নিজ থেকেই দেখিয়েছে উত্তর কোরিয়া।

বোল্টনের কাহিনি শুরু হয় গত মঙ্গলবার। এক লাইনের এক পদত্যাগপত্রে হোয়াইট হাউস ছাড়ার কথা জানান তিনি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে নিশ্চিত করেন ট্রাম্প। তাঁর টুইটে বলা হয়, ‘আমি জনকে (বোল্টন) পদত্যাগ করতে বলেছিলাম। আজ সকালে তিনি চিঠি দিয়ে গেছেন।’ পাল্টা টুইটে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন বোল্টন। ২০১৮ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের তৃতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। শুরু থেকেই তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের মতপার্থক্যের নানা কাহিনি গণমাধ্যমে চাউর হতে থাকে। আফগানিস্তান থেকে ইরান, উত্তর কোরিয়া থেকে ভেনিজুয়েলা, চীন থেকে রাশিয়া—এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর দ্বিমত হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের কয়েকটি সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার প্রধান অনুঘটক ছিলেন বোল্টন। গত মে মাসে ইরান মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইরানে হামলা চালানোর ব্যাপারে ট্রাম্পকে প্রায় রাজি করিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ উসকে দেওয়ার দায় তাঁর। রাশিয়ার সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধকালীন সম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহী ছিলেন তিনি। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট  মাদুরোর বিরুদ্ধে হুয়ান গুয়াইদোকে সমর্থন দিতে ট্রাম্পকে প্ররোচিত করেন তিনি। পরে দেখা যায় গুয়াইদো তাঁর মিশনে ব্যর্থ এবং তাঁকে সমর্থনসহ তাঁর পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রের বোকামি ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

সূত্র : বিবিসি, সিএনএন, এএফপি।

 

মন্তব্য