kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

৯/১১ হামলার ১৮ বছর

বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে ক্যান্সারের প্রকোপ

হৃদরোগেও ভুগছে অনেকে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে ক্যান্সারের প্রকোপ

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যখন নিউ ইয়র্কের টুইন টাওয়ারে বিমান নিয়ে সন্ত্রাসী ঢুকে পড়ে তখন জ্যাকুলিন ফেব্রিলেট নেহায়েতই তরুণী। ওই সময় বছর ছাব্বিশের ওই নারী কাজ করতেন টুইন টাওয়ারের দুই ব্লক পরে। ঘটনার ১৫ বছর পর ফেব্রিলেটের স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে। বিষাক্ত ছাইয়ের যে মেঘ ওই সময় তাঁকে ঘিরে ধরেছিল সেটাই তাঁর ক্যান্সারের কারণ বলে মনে করা হয়।

ফেব্রিলেট বলছিলেন, ‘৯/১১-এর সময় আমি ওখানেই ছিলাম। এর পরও বহু বছর ওখানে কাজ করেছি। কেউ আমাকে সতর্ক করেনি যে এমন কিছু ঘটতে পারে।’

রিচার্ড ফেহরের বয়স তখন আরো কম, ১৯। ঘটনার সময় ওই এলাকায় ছিলেন না তিনি। তবে ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত দক্ষিণ ম্যানহাটানে (টুইন টাওয়ার এই এলাকাতেই ভেঙে পড়ে) ভূমি সার্ভেয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। এখন তাঁর বয়স ৩৭ বছর। ১৮ মাস আগে কোলন ক্যান্সার ধরা পড়েছে তাঁর। ক্যান্সারের অবস্থা এখন প্রায় শেষপর্যায়ে। এত কম বয়সে এই রোগ হয় না। তাঁর পরিবারেও ক্যান্সারের ইতিহাস নেই।

ফেব্রিলেট ও ফেহরের মতো বহু মানুষকে এখন পাওয়া যাচ্ছে ৯/১১-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে। এরা ওই ভবন বা এর আশপাশে কাজ করতেন অথবা বসবাস করেছেন। ৯/১১-এর ওই হামলায় প্রায়  তিন হাজার মানুষ নিহত হয়। তবে হামলার পর পর যে হাজারো মানুষ ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে গেছে বা ধ্বংসাবশেষ সরাতে কাজ করেছে এরা তাদের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু প্রায় একই ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাদেরও।

টুইন টাওয়ারে হামলা ১৮ বছর পূর্ণ হবে আগামীকাল। তবে এখনো ওই ঘটনা থেকে আসা দুঃসংবাদ শেষ হয়নি।

৯/১১-এর হামলার পর বাতাসে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে ডাই-অক্সিন, এসবেসটস এবং অন্যান্য দূষিত কণা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ যাঁরা ওই ঘটনা মোকাবেলায় প্রথম সাড়া দিয়েছিলেন অথবা কয়েক মাস ধরে চলা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করেছে তাদের মধ্যে এ ধরনের রোগ সংক্রমণের কথা প্রথম শোনা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের ক্যান্সার ও হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা নেওয়া কয়েক হাজার লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় ২১ হাজার মানুষ চিকিৎসা নিয়েছে। এরা কেউই ঘটনার পর পর প্রথম সাড়া দেওয়া মানুষ নয়। এরা মূলত ওই ঘটনার সময় বা এরপর ওই এলাকায় কাজ করত বা বাস করত এমন। এদের মধ্যে চার হাজার লোকের ক্যান্সার শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রস্টেট, স্তন ও ত্বকের ক্যান্সারের হার বেশি।

ফেব্রিলেটের বয়স এখন ৪৪ বছর। তিনি এই দ্বিতীয় দলটিরই অংশ। তিনি বলছিলেন, ‘ওই সময় আমাদের যে বার্তা দেওয়া হয়েছে তা হলো, যত দ্রুত সম্ভব পরিবেশ-পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই মানুষ কাজ শুরু করে। কিন্তু কয়েক বছর পরের পরিস্থিতি দেখেন। মানুষ মরছে।’ ফাহরের ভাষ্যও ভিন্ন কিছু নয়, “আমার স্ত্রী আমার কাছে জানতে চান, ‘সন্ত্রাসীদের জন্য কি তোমার ক্যান্সার হয়েছে?’ আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়ে জবাব দিতে পারি না। তবে বিপর্যস্ত এলাকায় প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তিদের চলাচল সীমিত করার মাধ্যমে তারা হয়তো এখনকার সংকটের মাত্রা কিছুটা কমাতে পারত।’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠিক কী করে এভাবে ক্যান্সার ছড়াচ্ছে তা সুনির্দিষ্ট করা কঠিন। তবে এর সঙ্গে যে ওই ধ্বংসাবশেষের সম্পর্ক আছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কয়েকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ওই সময় যারা ওই এলাকায় কাজ করেছে তাদের মধ্যে এজাতীয় রোগে আক্রান্তের হার ১০-৩০ শতাংশ। এই হার মানুষের বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাড়বে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাত্রাও। এর কারণ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জুলাই মাসে ওই হামলায় ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সময় ২০২০ থেকে বাড়িয়ে ২০৯০ সাল করেছেন। বর্তমানে প্রত্যেক রোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দুই লাখ ৪০ হাজার ডলার থেকে শুরু করে ছয় লাখ ৮২ হাজার ডলার করে দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা