kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জনসনের মন্ত্রিসভা থেকে রাডের পদত্যাগ

ব্রেক্সিট না পেছালে জেলে যেতে হবে জনসনকে!

ব্রেক্সিট বিলম্বে ফ্রান্সের ‘না’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রেক্সিট না পেছালে জেলে যেতে হবে জনসনকে!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতিহাসের জটিলতম রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে আটকা পড়েছে যুক্তরাজ্য। এই জটিলতাকে আরেকটু বাড়িয়ে দিয়ে গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন তাঁর পেনশন-বিষয়ক মন্ত্রী আমবার রাড। ছয় সপ্তাহ আগে জনসন প্রধানমন্ত্রিত্বের যে কণ্টক মুকুট মাথায় পরেছেন, রাডের পদত্যাগ তাতে আরেকটি কাঁটা যোগ করল।

গত সপ্তাহজুড়েই অবশ্য জনসন বহু ‘কাঁটা’ কুড়িয়ে তাঁর মাথায় গুঁজেছেন। পার্লামেন্টের দুই কক্ষে পর পর তিন দফা ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। ফলে ব্রেক্সিটের বেঁধে দেওয়া সময় আরেক দফা পেছানো এবং চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের পথে না এগোনোর বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে তাঁর। পার্লামেন্টের এই ‘রায়ের’ পথে বাধা আর একটি—রানির অনুমোদন; যে অনুষ্ঠানিকতাটুকু আজ সোমবারই পালিত হয়ে যাবে। এরপর যদি জনসন এই আইন না মানেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যার সাজা হিসেবে প্রধানমন্ত্রিত্বের পদ তো যাবেই, সঙ্গে জেল-জরিমানাও হতে পারে জনসনের। যদিও জনসন গত শনিবার পর্যন্ত ব্রাসেলসের কাছে ব্রেক্সিট বিলম্বিত করার আবেদন না জানানোর ব্যাপারে গোঁ ধরে বসে ছিলেন। এর দুই দিন আগেই তিনি বলেন, দরকার হলে ‘খাদে পড়ে মরবেন’, তাও ব্রেক্সিট বিলম্বিত করবেন না।

ব্রেক্সিট বিলম্বিত করা প্রসঙ্গে ইউরোপীয় অবস্থানও অবশ্য প্রায় অভিন্ন। গতকাল ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইয়েভেস লা দ্রিয়ান বলেন, বিলম্বের প্রশ্ন এলে তিনি তাতে ‘না’ বলবেন। প্রসঙ্গত, আগামী ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট সম্পন্ন হওয়ার কথা। এর আগেই ব্রেক্সিটের জন্য দুই দফা সময় বাড়িয়ে নিয়েছে ব্রিটেন।

জনসনের মন্ত্রিসভা থেকে গত শনিবার পদত্যাগ করেছেন আম্বার রাড। জনসনের পূর্বসূরি টেরেসা মের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন তিনি। তাঁর পরিচয় মধ্যপন্থী হিসেবে। এর আগে গত জুলাই মাসে জনসনকে সমর্থন করেছিলেন রাড। তবে এবার অবস্থান পাল্টালেন তিনি। পদত্যাগ প্রসঙ্গে করা এক টুইটে তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছি। অনুগত, মধ্যপন্থী কনজারভেটিভদের বিদায় করে দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’ সম্প্রতি চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট কার্যকর করার বিষয়টি রুখে দিতে ব্রেক্সিট বিলম্বিত করার যে বিল পার্লামেন্টে তোলা হয়, তাতে সমর্থন দেওয়ার জন্য ২১ টোরি এমপিকে দল থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জনসন—এ প্রসঙ্গটি পদত্যাগের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন রাড। রাডের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধী লেবার ও কনজারভেটিভ পার্টির বিদ্রোহী অংশ। তবে ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ বলেন, রাডকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েই ভুল করেছিলেন জনসন।

তবে রাডকে হারানোর চেয়েও বড় জটিলতা জনসনের সামনে অপেক্ষা করছে। ব্রেক্সিট নিয়ে তাঁর অবস্থান একই সঙ্গে আইনি ও সংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি করেছে। ব্রেক্সিট নিয়ে আর সময়ক্ষেপণ করবেন না এমন—একগুঁয়ে জেদে অটল জনসন। আর এদিকে বিলম্ব ও চুক্তির দাবিতে একাট্টা পার্লামেন্টের দুই কক্ষ। এ ব্যাপারে রীতিমতো আইন করার দ্বারপ্রান্তে তারা। একই সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা। আর এর পরও যদি জনসন তাদের মত না মানেন, সে ক্ষেত্রে জেলের ভাতও খেতে হতে পারে তাঁকে। গতকাল দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এমন কথাই বলা হয়েছে। এতে এক বিশ্লেষক পাবলিক প্রসিকিউশনের সাবেক পরিচালক লর্ড ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে প্রমাণিত হলেই আপনাকে জেলে ঢুকতে হবে।’ তবে এতটা কঠোর অবস্থানে নেই ফিলিপ স্যান্ডস। তিনি বলেন, ‘ব্রিটেনে এ ধরনের নজির প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে নেই। বিষয়টি হয়তো এমন হবে যে হয় যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা পালন করতে হবে অথবা পদত্যাগ করতে হবে।’

ব্রিটেনে চলতে থাকা এ ধরনের জটিলতার মধ্যেই ফ্রান্স জানিয়েছে, ব্রেক্সিটের আরো বিলম্বে তাদের মত নেই। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-ইয়েভেস লা দ্রিয়ান গতকাল বলেছেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে জবাবটি হচ্ছে ‘না’। প্রতি তিন মাস অন্তর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাই না আমরা।’ সূত্র : এএফপি, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য গার্ডিয়ান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা