kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হাউস অব লর্ডসেও পাস বিলম্বিত ব্রেক্সিট বিল

এরপরও জনসন না মানলে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে গত শুক্রবার বিলম্বিত ব্রেক্সিট বিল পাস হয়েছে। তার পরও যদি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের পথে অগ্রসন হন, তবে সেটা ঠেকাতে প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন পার্লামেন্ট সদস্যরা (এমপি)।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে চুক্তি হোক বা না হোক, প্রধানমন্ত্রী জনসন নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। তাঁকে ঠেকাতে গত বুধবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমনসে বিলম্বিত ব্রেক্সিট বিল পাস করে বিরোধী পক্ষ। গত শুক্রবার হাউস অব লর্ডসেও সেটি বিনা বাধায় পাস হয়ে যায়। এখন এ বিল আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হওয়ার জন্য শুধু রানির স্বাক্ষরের অপেক্ষা। আগামীকাল সোমবার রানি এলিজাবেথ এতে সই করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিলে বলা হয়েছে, ইইউ ত্যাগের ব্যাপারে জোটের সঙ্গে ব্রিটেনের চুক্তি যদি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস না হয় অথবা চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের প্রতি পার্লামেন্ট সমর্থন না দেয়, তবে আরো তিন মাস ব্রেক্সিট পেছানোর জন্য জনসনকে ইইউয়ে আবেদন করতে হবে।

এদিকে গত বুধবার বিলম্বিত ব্রেক্সিট বিল পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী জনসন তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের স্বার্থে সেদিনই আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব করেন, কিন্তু তাতেও বাদ সাধেন এমপিরা। ওই দিনের ব্যর্থতার পর আগামীকাল সোমবার তিনি হাউস অব কমনসে আবার আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব তুলবেন। তাঁর আশা, আগাম নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে অনায়াসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকরে সফল হবেন। বলা বাহুল্য, ব্রেক্সিট জটিলতার জেরে কনজারভেটিভ এমপিদের অনেকে দলত্যাগী হয়েছেন। ফলে এখন তিনি পার্লামেন্টে সংখ্যালঘু, যা তাঁর ব্রেক্সিট সাফল্য অর্জনের পথে অন্তরায়। সংকট কাটানোর আশায় তিনি আগাম নির্বাচনের দিকে ঝুঁকেছেন।

পার্লামেন্টে পাস হওয়া বিলম্বিত ব্রেক্সিট বিল উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী যদি সামনে এগোনোর চেষ্টা করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন বিরোধী এমপিরা। গতকাল শনিবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটবিরোধী এমপিরা আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে জনসন বলে রেখেছেন, তিনি মরে গেলেও ব্রেক্সিট পেছানোর আবেদন করবেন না। এ আশায় তিনি আগামীকাল আবার আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব পার্লামেন্টে তুলতে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রেক্সিট কার্যকরে মরিয়া জনসন আগামীকাল ব্যর্থ হলে এরপর হয়তো নিজেই সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট ডাকবেন। কারণ অনাস্থা ভোটে জিতলে এর ফলাফল আগাম নির্বাচনের দিকে গড়াবে এবং এর মধ্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পার্লামেন্টে ফিরলে জনসন হয়তো ব্রেক্সিট কার্যকরে সফল হবেন, কিন্তু তিনি যদি সত্যি অনাস্থা ভোট ডেকে বসেন, তবে তাতে তিনি সফল হবেন না বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সূত্র : রয়টার্স, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা