kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের খবরে তালেবানের ‘উল্লাস’

ফারাহ প্রদেশে সেনাবাহিনীর একটি স্থাপনা দখল করে নিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফগান তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি অনেকটাই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আর বিষয়টি এরই মধ্যে উদ্‌যাপন শুরু করে দিয়েছে তালেবান সমর্থকরা। বিশেষ করে খসড়া চুক্তিতে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের যে বিষয়টি রয়েছে, সেটাকে নিজেদের বিজয় আর মার্কিন বাহিনীর পরাজয় হিসেবে দেখছে তালেবানরা।

আফগান যুদ্ধের বয়স প্রায় ১৮ বছর। এই লম্বা সময় ধরে মার্কিন অভিযানের মুখে দুর্বল হয়ে পড়লেও তালেবান নিঃশেষ হয়ে যায়নি। তালেবানের ‘জন্মস্থল’ দক্ষিণ আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশ এখনো তালেবানের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

সম্প্রতি কান্দাহারের একাধিক তালেবান নেতা ও সমর্থকের সঙ্গে কথা বলেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। তাদের একজন মোহাম্মদ মনজুর হুসাইনি; যিনি দীর্ঘদিন পাকিস্তানে আত্মগোপনে ছিলেন। তালেবানের অবস্থা আগের চেয়ে শক্তিশালী হওয়ায় সম্প্রতি কান্দাহারে ফিরেছেন তিনি। হুসাইনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের সবাই ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সমাজ চায়।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ‘ইসলামী মূল্যবোধ’ শব্দ দুটি নিয়েই বেশি দর-কষাকষি করে তালেবান। তাত্ত্বিকভাবে ‘ইসলামী মূল্যবোধ’-এর পরিসর অনেক বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু তালেবান নিজেদের মতো করে এই মূল্যবোধের ভেতর নিজেদের কিছু দাবি অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। বিশেষ করে নারীদের স্বাধীনতা তারা অস্বীকার করতে চায়।

হুসাইনি বলেন, ‘আফগানরা শান্তি চায় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে। আর আফগানদের উচিত একে অন্যকে বিশ্বাস করা। বাইরের কোনো শক্তির দিকে তাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত নয়।’ তবে পরিস্থিতি ঠিকঠাক মোকাবেলা করা না গেলে যুদ্ধের অবসান ঘটতে আরো ২০ বছর লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেন কান্দাহারের পার্শ্ববর্তী জাবুল প্রদেশের শাহজয় জেলার বাসিন্দা হাফিজ মোহাম্মদ ওয়ালি। তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে এমন একটা খবরের অপেক্ষায় আছি। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। এখনকার মানুষ শান্তি চায়। তবে আমাদের মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার পর তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকার কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে কি না। কারণ বিভিন্ন জায়গায় আফগানরা নিজেরা নিজেরা লড়াই করছে।’

২০০১ সালে মার্কিন হামলার পর যেকোনো সময়ের চেয়ে আফগানিস্তানের আরো বেশি অঞ্চল এখন তালেবানের দখলে রয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি। তারা আফগান সরকারকে মূল্যায়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হাতের পুতুল’ হিসেবে।

তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তি এখনো সামনে আসেনি। তবে চুক্তিতে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তালেবানকে অনেক বিষয়ে নিশ্চিয়তা দিতে হবে। বিশেষ করে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তাদের মিত্রদের ওপর হামলার জন্য তালেবান নিজেদের কোনো ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না।

হেলমান্দ প্রদেশের তালেবান কমান্ডার মোল্লা গুল আগা বলেন, ‘বিদেশি আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে আফগানরা বছরের পর বছর ধরে লড়ে যাচ্ছে। আমরা বাইরের কোনো শক্তির কাছে কখনোই মাথা নত করব না। আমরা ব্রিটিশদের হারিয়েছি, রুশদের হারিয়েছি, এখন মার্কিনিদেরও হারিয়েছি।’

এদিকে ফারাহ প্রদেশের ফারুক বারাকজাই শহরে অভিযান চালিয়ে আফগান সেনাবাহিনীর একটি স্থাপনা দখল করে নিয়েছে তালেবান। সেনাবাহিনীতে লোক নেওয়ার জন্য ওই স্থাপনা ব্যবহার করা হতো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসরাত রাহিমি বলেছেন, ‘এ ধরনের অভিযানের জন্য তালেবানকে মাসুল দিতে হবে।’

অন্যদিকে তালেবান মুখপাত্র কারি ইউসুফ আহমাদি বলেন, ‘পুরো ফারাহ প্রদেশে আমরা বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা