kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘মরে গেলেও’ ব্রেক্সিট পেছাবেন না জনসন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘মরে গেলেও’ ব্রেক্সিট পেছাবেন না জনসন

একদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের পথ রুদ্ধ করার চেয়ে তিনি বরং খাদে পড়ে মরতে রাজি আছেন। অন্যদিকে লেবার পার্টি বলছে, যেকোনো মূল্যে তারা চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাবে।

কালের কণ্ঠ’র লন্ডন প্রতিনিধি জানান, প্রধানমন্ত্রী জনসন ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারে গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এক ভাষণে বলেছেন, প্রাণের বিনিময়ে হলেও তিনি ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকর করবেন। নিজের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকরের জন্য মরিয়া জনসন গত বুধবার পার্লামেন্টে সব ধরনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পরদিন এ কথা বলেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের স্বার্থে গতকাল শুক্রবার স্কটল্যান্ডে নতুন করে প্রচারে নামেন। এদিন পুরো সকাল তিনি স্কটল্যান্ডের জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে কাটান। বলা দরকার, স্কটল্যান্ডের জেলে সম্প্রদায় ২০১৬ সালের ব্রেক্সিটবিষয়ক গণভোটে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিল।

ব্রেক্সিট এগিয়ে নিতে পার্লামেন্টে গত বুধবার জনসনের সব চেষ্টা ব্যর্থ হলেও নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছে ব্রেক্সিটপন্থীরা। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকরের স্বার্থে আগামী সপ্তাহ থেকে পার্লামেন্ট মূলতবি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে হওয়া মামলা খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক, যা জনসন শিবিরে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তবে ওই মামলার ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল করার অনুমতি ঠিকই দিয়েছেন হাইকোর্ট।

পার্লামেন্ট মুলতবি রাখার ব্যাপারে আপাতত প্রধানমন্ত্রী জনসন হাইকোর্টের অনুমতি পেলেও তাঁকে কোনোভাবেই আগাম নির্বাচন করতে দিতে রাজি নয় চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটবিরোধীরা। ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমিলি থর্নবেরি জানিয়েছেন, লেবার পার্টির আগাম নির্বাচনে সমর্থন দেবে না। কনজারভেটিভ সরকার আগামী সোমবার পার্লামেন্টে আবার আগাম নির্বাচন নিয়ে ভোটাভুটির আয়োজন করতে চায়। গত বুধবারের ব্যর্থতার পর সরকার এবার ভিন্ন আইনের আওতায় এ ভোটাভুটি করবে। তবে লেবার পার্টি তাতে সায় দেবে না। এমিলি বলেন, ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা বাড়ালে তাঁরা নভেম্বরে আগাম নির্বাচনের কথা বিবেচনায় নেবেন।

কনজারভেটিভ নেতা জনসন অবশ্য এখন পর্যন্ত অঙ্গীকার পূরণে অটল। তিনি তৃতীয় দফায় ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা বাড়াতে রাজি নন। মূলত আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট কার্যকরের অঙ্গীকার করেই তিনি ক্ষমতায় এসেছেন। তাঁর পূর্বসূরি আরেক কনজারভেটিভ নেতা টেরেসা ব্রেক্সিট কার্যকরের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যে চুক্তি করেছেন, তাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সদস্যরা সমর্থন না দেওয়ায় ব্রেক্সিট কার্যকর করা যায়নি। তাই এবার ইইউর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি হোক বা না হোক, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জোট ছাড়তে চান জনসন।

সূত্র : গার্ডিয়ান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা