kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইরানের ওপর চাপ আরো বৃদ্ধির দাবি নেতানিয়াহুর

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় কারাপ্রহরী ছাড়া কিছু নয় : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইরানের সঙ্গে আলোচনার পরিবর্তে দেশটির ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার এ বক্তব্য দেন। একই দিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়কে ‘স্রেফ কারাপ্রহরী’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। এ ছাড়া ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি গতকাল জানিয়েছেন, পরমাণু চুক্তি শর্ত লঙ্ঘনের তৃতীয় পর্যায়ের ব্যাপারে আগামীকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

নেতানিয়াহু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারের সঙ্গে দেখা করার জন্য গতকাল লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হন। লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রাক্কালে তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকালে আমরা ইরানের আরেকটি নিয়ম লঙ্ঘন, আরো অবাধ্যতার খবর পেয়েছি। এবার ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।’ নেতানিয়াহু আরো বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আলোচনার করার সময় এটা নয়। এখন ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর সময়।’

এদিকে নেতানিয়াহুর এ বক্তব্যের দিনই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী টুইট করেছেন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক জারিফ। গতকাল টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘ওএফএসি (বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি দপ্তর) এক কারাপ্রহরী ছাড়া আর কিছুই নয় : তাদের কাছে শাস্তি থেকে অবকাশ চাইলে স্পর্ধা দেখানোর অপরাধে একঘরে হয়ে যাবেন। দ্বিতীয়বার একই অনুরোধ করলে আপনাকে হয়তো ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ থেকে রেহাই পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো ফাঁসির দড়ি থেকে নিজেকে মুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।’

গত বুধবার ইরানবিরোধী নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরদিন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী মিত্র ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে উভয়ের চরম শত্রু ইরানের পক্ষ থেকে এসব বক্তব্য এলো।

ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালে ইরানের করা চুক্তিতে বলা হয়েছে, পরমাণু কর্মসূচির লাগাম টানার বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) শীর্ষক ওই চুক্তি থেকে ২০১৮ সালের মে মাসে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পাশাপাশি  নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে থাকেন। এর জবাবে ইরান জেসিপিওএর শর্ত লঙ্ঘন করে পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নিতে থাকে। জেসিপিওএভুক্ত অন্য তিন দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ওয়াশিংটন-তেহরানকে আলোচনায় বসানোর তোড়জোড় চালালেও ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে তবেই আলোচনা হবে এবং সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই জেসিপিওএ মেনে আলোচনায় আসতে হবে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা