kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কাশ্মীর ইস্যুতে পুতিনের সমর্থন!

ভারত-রাশিয়া কারো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না: মোদি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব আরো গাঢ় করতে চান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর চাওয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়েই যেন জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতকে সমর্থন দিল রাশিয়া। গতকাল বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়কালে এ ইস্যুতে মোদির সঙ্গে তাঁর কথা হয়। এ ছাড়া যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি এ কথাও বলেন, ‘রাশিয়া ও ভারত উভয়ের কেউই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে বিশ্বাস করে না।’

রাশিয়ান ফার ইস্টের উপকূলীয় শহর ভ্লাদিভস্তকে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী এক অর্থনৈতিক ফোরাম। এ ফোরাম উপলক্ষে ভ্লাদিভস্তকে গিয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন মোদি। কথাবার্তার শুরুতে ভারতের সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতায় নতুন গতি আনার জন্য এ এক ঐতিহাসিক সুযোগ। আমরা আজ এক নতুন ঘোষণায় স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি। এটা হলো আমাদের সহযোগিতা আরো বাড়ানোর অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ।’ ভারত ও রাশিয়া অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘রাশিয়া ও ভারত উভয়ই আফগানিস্তানে একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার দেখতে চায়।’

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস (এএফপি) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিয়ে এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর অর্থনৈতিক ফোরামের আয়োজন করছে রাশিয়া। এবারের আয়োজনে জাপান, মঙ্গোলিয়া ও মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় নেতারাও যোগ দিয়েছেন। তবে গতকাল মোদির সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি সময় দিয়েছেন পুতিন। এ দুই নেতার বৈঠকে কাশ্মীর ইস্যুতেও কথা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, রাশিয়া কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতকে সমর্থন দিয়েছে। রাশিয়ার মতে, ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো মেনেই জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

পুতিন-মোদি বৈঠকে বেশ কিছু চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। এ ছাড়া মোদি রাশিয়া পৌঁছনোর আগে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সহযোগী ইউরি উশাকভ জানান, যৌথ বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বিষয়ক ইস্যু ওই দুই নেতার আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। তিনি আরো জানান, রাশিয়ান ফার ইস্ট ও আর্কটিক অঞ্চলে খনিজ জ্বালানি অনুসন্ধানে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে দুই দেশ। এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতের মাটিতে কামভ কা-২২৬ হেলিকপ্টার তৈরির পরিকল্পনায়ও অগ্রগতি হবে বলে আশা করছেন রাষ্ট্রায়ত্ত রুশ প্রতিষ্ঠান রসটেকের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক পরিচালক ভিক্টর ক্লাদভ।

রাশিয়ার তৈরি অস্ত্রের অন্যতম এক ক্রেতা ভারত। গত বছর রাশিয়ার কাছ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার চুক্তি করেছে ভারত। রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কিনলে ক্রেতার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি উপেক্ষা করে ভারত এ চুক্তি করেছে। ২০২৩ সালের মধ্যে সেটি ভারতের কাছে হস্তান্তর করার কথা। এ ছাড়া ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে গত বছর প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। এ অবস্থায় ভারত নিজেদের সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নিজেদের মাটিতে অস্ত্র উৎপাদনের দিকে ঝুঁকেছে এবং এ জন্য রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা