kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের মহাকাশ গবেষণা

ব্রিটিশ জাহাজের সাত নাবিককে মুক্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের মহাকাশ গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্র এবার ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সম্প্রতি ইরানের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে বিস্ফোরণের ঘটনাকে বিশ্বের জন্য হুমকি বিবেচনা করে গত মঙ্গলবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ইরানের মহাকাশ গবেষণার ওপর এটাই প্রথম কোনো নিষেধাজ্ঞা। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে আটককরা ব্রিটিশ তেল ট্যাংকারের ২৩ নাবিকের মধ্যে সাতজনকে মুক্তি দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরান মহাকাশ সংস্থা এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত দুটি গবেষণা সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছ। এর ‘যৌক্তিকতা’ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরান তার মহাকাশ উেক্ষপক যান পাঠানোর কর্মসূচিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আধুনিকায়নে কাজে লাগাবে—এটা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে পারে না। ইরান গত ২৯ আগস্ট মহাকাশ উেক্ষপক যান পাঠানোর চেষ্টা করে, যা হুমকির ভয়াবহতাকেই তুলে ধরছে।

বৃহস্পতিবার উত্তর ইরানের ইমাম খোমেনি মহাকাশ কেন্দ্রের উৎক্ষেপণস্থলে তেহরানের একটি রকেট নির্ধারিত সময়ের আগেই বিস্ফোরিত হয়েছিল। এর পরের দিন টুইটারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই বিস্ফোরণের ধ্বংস চিহ্নে একটি হাই রেজুলেশনের ছবি পোস্ট করে বলেন, এখানে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই করেনি। পরে গত সোমবার ইরার সরকারের মুখপাত্র আলি রাবেইল এক বিবৃতিতে জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছিল।

যুক্তাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের মহাকাশ সংস্থার পাশাপাশি দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ও মহাকাশে যাতায়াতসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যারোনটিকস রিসার্চ ইনস্টিটিউটও থাকছে। এ তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক না রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সাত নাবিকের মুক্তি : অন্যদিকে গত জুলাই মাসে আটক করা সুইডিশ মালিকানাধীন ব্রিটিশ পতাকাবাহী ট্যাংকারের সাত নাবিককে মানবিক কারণে মুক্তি দিয়েছে ইরান। গতকাল বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে এ কথা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এরই মধ্যে জাহাজ ত্যাগ করেছে এই নাবিকরা। তাদের মধ্যে পাঁচজন ভারতীয়, একজন লাটভীয় ও অন্যজন রুশ।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা চলার মধ্যে গত ১৯ জুলাই উপসাগরের হরমুজ প্রণালি থেকে ট্রিটিশ পতাকাবাহী ট্যাংকার স্টেনা ইম্পারোকে আটক করে ইরান। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করার কারণে জাহাজটি আটক করে তারা। তবে ব্রিটেন বলে আসছে, আটকের সময় তাদের জাহাজটি ওমানের জলসীমায় ছিল।

জানা গেছে, ট্যাংকার থেকে মুক্তি না পাওয়া বাকি ১৬ নাবিকের মধ্যে ১৩ জন ভারতীয়, দুজন রুশ ও একজন ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন। 

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মৌসাভি বলেন, জাহাজের ক্যাপ্টেন ওই সাত নাবিককে মুক্তির জন্য বাছাই করেন। তিনি বলেন, তারা মুক্তি পেয়েছে এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। ইরানের মানবিক নীতির ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা