kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধনী দেশগুলোতে মৃত্যুর বড় কারণ ক্যান্সার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধনী দেশগুলোতে মৃত্যুর বড় কারণ ক্যান্সার

ধনী দেশের মানুষের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ এখন ক্যান্সার, তবে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটছে হৃদরোগে; দশকব্যাপী গবেষণা শেষে প্রণীত দুটি প্রতিবেদনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। গবেষণা দুটি পরিচালনা করেছেন কানাডার গবেষকরা। গতকাল মঙ্গলবার দ্য ল্যানসেট শীর্ষক চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকীতে গবেষণা প্রতিবেদন দুটি প্রকাশ করা হয়।

একসময় বিশ্ববাসী ছোঁয়াচে রোগের ছোবলে প্রাণ হারালেও এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন এবং সেই চিত্র তুলে ধরে কানাডার কুইবেক রাজ্যের লাভাল ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক গিলেস দেগানাইস বলেন, ‘বিশ্বে এখন নতুন ধরনের মহামারি রোগ দেখা দিচ্ছে, যেসব রোগ ছোঁয়াচে নয়।’ তিনি জানান, উচ্চ আয়ের দেশগুলোয় হৃদরোগ এখন আর মানুষের মৃত্যুর শীর্ষ কারণ নয়। হৃদরোগের স্থলে জায়গা করে নিয়েছে ক্যান্সার। আর বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর ধারণা, বিশ্বজুড়ে যেভাবে হৃদরোগের হার কমছে, তাতে কয়েক দশকের মধ্যে মানুষের মৃত্যুর শীর্ষ কারণ হয়ে উঠতে পারে ক্যান্সার।

উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন আয়ের ২১টি দেশের এক লাখ ৬০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর এক দশক ধরে গবেষণা করেছেন দেগানাইস ও তাঁর দল। এর ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী মধ্যবয়সীদের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হৃদরোগ। এ রোগে মৃত্যুর হার ৪০ শতাংশের বেশি। আর বিশ্বব্যাপী মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ হলো ক্যান্সার। ২০১৭ সালে এ রোগে ২৬ শতাংশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তবে ধনী দেশগুলোয় মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ক্যান্সার। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ক্যান্সার ও নিউমোনিয়ার মতো অসংক্রামক রোগে ধনী দেশগুলোয় যত মানুষ মারা যায়, নিম্ন আয়ের দেশে ওই সব রোগে মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম।

কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে ৭০ শতাংশ হৃদরোগের পেছনে যেসব কারণ দায়ী, সেগুলো সংশোধন করা সম্ভব। সংশোধনযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে খাদ্যতালিকা, জীবনযাপন পদ্ধতি ও আর্থ-সামাজিক বিষয়াবলি। এ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ৪০ শতাংশ হৃদরোগের পেছনে রয়েছে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, স্থূলতা ও ডায়াবেটিস। উচ্চ আয়ের দেশের মানুষ এসব কারণেই সবচেয়ে বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বসতবাড়ির দূষণ, বাজে খাদ্যাভ্যাস ও শিক্ষার অভাবও হৃদরোগের কারণ হিসেবে কাজ করছে।

ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিষয়ের অধ্যাপক সেলিম ইউসুফ মনে করেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় হৃদরোগ প্রতিরোধে নতুন ধরনের ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। সংক্রামক রোগের পরিবর্তে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এসব দেশের সরকারের বেশি নজর দেওয়া উচিত। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা