kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বহু জটিলতার আবর্তে ব্রেক্সিট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বহু জটিলতার আবর্তে ব্রেক্সিট

সরকারের ব্রেক্সিট ব্যবস্থাপনায় বিরক্ত লোকজন গতকাল লন্ডনে পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করে। ছবি : এএফপি

ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যরা মূল বিতর্কের জন্য সম্ভবত এ সপ্তাহটুকুই সময় পাবেন। এরপর আগামী সপ্তাহ থেকেই প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রস্তাবিত পার্লামেন্ট মুলতবির সময় শুরু হবে। ফলে গতকাল মঙ্গলবার থেকে যে অধিবেশন বসেছে তা শুরু থেকেই উত্তপ্ত। এমপিদের সামনে এখন মূল লক্ষ্য দুটি—প্রথমত ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া এবং চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট প্রতিহত করা।

এমপিদের এ উদ্যোগে জনসনের ক্ষমতাসীন দলেরও অনেক এমপি যোগ দেবেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। জনসন নিজে অবশ্য চুক্তিসহ হোক বা চুক্তি ছাড়া যেকোনো প্রকারে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় আসা জনসন শুরু থেকেই এ কথা শুনিয়ে আসছেন। আগামী ৩১ অক্টোবর ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট হলে অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়বে ব্রিটেন। এরই মধ্যে এ ধরনের আশঙ্কায় পাউন্ডের দাম পড়তে শুরু করেছে। ২০১৬ সালের পর পাউন্ডের মূল্য ডলারের বিপরীতে এখন সবচেয়ে কম।

এসব বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি রেখেই কনজারভেটিভ দলের বিদ্রোহী এমপি ডমিনিক গ্রিয়েভ বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং দলের নেতা যদি এমন কিছু করেন যা আমি মৌলিকভাবে ভুল বলে মনে করি, তাহলে তাকে সমর্থন করব না। আমি মনে করি, আমাদের পরস্পরের প্রতি যদি বর্তমান আচরণ অব্যাহত থাকে, তাহলে কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়।’

তবে জনসনকে কী করে থামানো সম্ভব বা তিনি সত্যি সত্যি আবারও নির্বাচনের ডাক দেবেন কি না তা বোঝা ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার মতোই জাটিল। আইন প্রণেতারা প্রথমত চেষ্টা করবেন ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার। আগামী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ইইউ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন চুক্তি করা সম্ভব না হলে (ইইউর ভাষায় যা অসম্ভব) ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পার্লামেন্টে ভোটের আয়োজন করতে যাচ্ছেন তাঁরা।

তবে বিষয়টি নিয়ে ভোটাভুটিতে সাফল্য এলেই তা বাস্তবায়ন সম্ভব এমন নয়। এরই মধ্যে জনসনের ঘনিষ্ঠ মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরকার পার্লামেন্টের সিদ্ধান্ত আগ্রহ্য করতে পারে।

সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্রেক্সিট নিয়ে জনসনের এমন দৃঢ় মনোভাব সাধারণ মানুষ পছন্দ করছে। এর প্রেক্ষাপটে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে, জনসন এখন আগাম নির্বাচনের ডাক দিলে পার্লামেন্টে তাঁর অবস্থান সুদৃঢ় হতে পারে। প্রসঙ্গত, পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ পার্টি এখন মাত্র এক আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন জনসন। যদিও নির্বাচন হোক বা না হোক ব্রেক্সিট জটিলতা কমার খুব একটা সম্ভাবনা নেই। সূত্র : এএফপি, সিএনএন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা