kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে বিল প্রস্তুত বিরোধীদের

মানবেন না বরিস, নির্বাচনের পথে ব্রিটেন!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটেনজুড়ে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতি ব্রেক্সিট সম্পন্নে ‘আরেকটি অর্থহীন কালক্ষেপণ’-এর প্রস্তাবে সমর্থন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

জনসন এ-ও জোর দিয়ে বলেছেন যে তিনি আগাম সাধারণ নির্বাচন দিতে চান না। তবে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলেছে, প্রধানমন্ত্রী আগাম নির্বাচন ডাকতে পারেন। আগামী ১৪ অক্টোবর সেই নির্বাচন হতে পারে।

জনসনের ‘চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের’ বিরুদ্ধে একটি বিল তৈরি করেছে বিরোধী লেবার পার্টি। গতকাল জনসনের বক্তব্য দেওয়ার কিছু আগে নিম্নকক্ষ হাউস অব কমনসে ব্রেক্সিট কমিটির লেবার দলীয় চেয়ারপারসন হিলারি বেন বিলটি প্রকাশ করেন। বিলে জনসনের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিরও বেশ কিছু পার্লামেন্টারিয়ানের সমর্থন রয়েছে।

বিরোধীদের ওই বিলে তিনটি বিকল্প রাখা হয়েছে। এক. প্রধানমন্ত্রী জনসনকে চুক্তি প্রত্যাহারের বিষয়ে আগামী ১৯ অক্টোবরের মধ্যে এমপিদের সমর্থন আদায় করতে হবে। দুই. চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে এমপিদের সমর্থন আদায় করতে হবে এবং তিন. ব্রেক্সিট সম্পন্নে সময় বাড়ানোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে চিঠি লিখতে হবে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট বরাবরে লেখা চিঠিতে ব্রেক্সিট সম্পন্নের জন্য ফের যে সময়সীমা চাওয়া হবে সেটি হচ্ছে ৩১ জানুয়ারি ২০২০। ইইউ যদি প্রস্তাবে সম্মত হয় তবে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করার চূড়ান্ত সময়সীমা হবে ৩১ জানুয়ারি। বিলে আরো বলা হয়, দুই পক্ষ যদি ১৯ অক্টোবর ও ৩১ জানুয়ারির মধ্যে একটি চুক্তিতে আসতে পারে তবে খুব দ্রুতই ব্রেক্সিট সম্পন্ন হবে। তবে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সমঝোতায় আসতে না পারলে কী হবে সে সম্পর্কে বিলে কিছু বলা হয়নি।

ব্রেক্সিটের জন্য প্রাথমিকভাবে পার্লামেন্টে ২৯ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। পরে দুই দফা এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন গতকালও ফের আগাম নির্বাচনের দাবি তোলেন। সানডে টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে একই সঙ্গে তিনি এ-ও জানান, প্রথমে চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট রুখে দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এরপর ৩১ অক্টোবরের সময়সীমা পার করার পর আগাম নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। জনসন জানান, তিনি ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়ার জন্য কখনোই ইইউকে বলবেন না। বলেন, বিরোধীদের উদ্যোগে সাড়া দিলে তা ইইউর সঙ্গে ফের একটি ‘নতুন অসম্ভব’ চুক্তি নিয়ে আলোচনা ছাড়া কিছুই হবে না। বেশ কয়েকজন সাবেক টোরি প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। তাঁরাও চান না ৩১ অক্টোবের মধ্যে ‘চুক্তিহীন’ ব্রেক্সিট হোক। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা