kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে তফসিলি জাতির লক্ষাধিক মানুষ’

রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি দিচ্ছেন মমতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে তফসিলি জাতির লক্ষাধিক মানুষ’

ভারতের আসামে প্রকাশিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) থেকে তফসিলি জাতির এক লাখের বেশি  মানুষ বাদ পড়েছে বলে দাবি করেছে দিল্লিভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইটস অ্যান্ড রিস্ক অ্যানালিসিস গ্রুপ (আরএএজি)। ভারতের বিতর্কিত বন অধিকার আইনের কারণে জমির মালিকানা দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা বাদ পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত শনিবার আসামে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। নাগরিক তালিকায় স্থান পেতে তিন কোটি ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৬৬১ জন আবেদন করে। এতে স্থান পায় তিন কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার চার জন। আর বাদ পড়ে ১৯ লাখ ছয় হাজার ৬৫৭ জন।

আরএএজির মতে, ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্টের অধীনে জমির মালিকা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে লক্ষাধিক তফসিলি জাতির মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

সংস্থাটির পরিচালক সুহাস চাকমা বলেন, প্রাথমিক জরিপে জানা গেছে, প্রায় ২৪ হাজার বোড়ো, ৯ হাজার রিয়াং, আট হাজার হাজং এবং বিভিন্ন জাতির আরো ১২ হাজার সদস্য এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে। অথচ আসাম সরকার জানিয়েছে, ২০০৫ সালের আগে বনের জমিতে বসবাসের প্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকার ২২ হাজার ৩৯৮ জন তফসিলি জাতির জমির মালিকানা প্রত্যাখ্যান করেছিল।

সুহাস চাকমা বলেন, হাইলাকান্দি জেলায় ৩৬ হাজার রিয়াং জাতির মধ্যে ২৫ শতাংশ এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে। এর বড় অংশই নারী। কারণ তারা ১৯৭১ সালের আগের বংশতালিকার প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই জাতি মূলত স্থানান্তরকারী চাষি এবং তাদের সাক্ষরতার হার একেবারেই নিম্ন। তারা ভারতের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ জাতিগোষ্ঠী হিসেবেও চিহ্নিত। ফলে এই জাতির লোকজন, বিশেষ করে নারীদের বিয়ের পর তাদের উত্তরাধিকার তালিকার প্রমাণ রাখার মতো জ্ঞান ও সচেতনতা নেই।

সুহাস বলেন, এটা খুবই হাস্যকর যে আসামের তফসিলি জাতিরা আদি বাসিন্দা হিসেবে স্থান পায়নি। অথচ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের জুলাইয়ে এক আদেশে বলেছেন, আসামের ‘আদি অধিবাসীরা ‘চা উপজাতি’ হিসেবে স্থান পাবে। আর ‘চা উপজাতি’ একটি শিথিল পরিভাষা। ফলে চা উপজাতিরা নিজেদের আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দিতে চায়।

মানবাধিকার সংস্থাটি এসব তফলিসি জাতিকে ‘আসামের আদি বাসিন্দা’ হিসেবে এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্র ও আসাম রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এনআরসি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রতিবাদে নামবেন মমতা

আসামে এএনআরসি করার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রতিবাদে নামবে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সূত্রে এমনটাই জানা গেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে একটি বৈঠক হয়। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আসামে এনআরসি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এক লাখ গুর্খার নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় তিনি তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। এবার এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিতে চলেছেন তিনি।

বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে এবং আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি করার প্রতিবাদে ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। ১২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল করা হবে তৃণমূলের তরফে। দলের এক নেতা জানিয়েছেন, মিছিলে উপস্থিত থাকতে পারেন খোদ মমতা। সূত্র : দ্য হিন্দু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা