kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আট দশক পর পোল্যান্ডের কাছে জার্মানির ক্ষমা প্রার্থনা

ইতিহাসের দায় আমরা বহন করব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক    

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইতিহাসের দায় আমরা বহন করব

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ৮০ বছর পূর্তিতে গতকাল মোমবাতি হাতে স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেয় পোল্যান্ডের ইয়েলুন শহরের বাসিন্দারা। ছবি : এএফপি

দুয়েক বছর বা দুয়েক দশক নয়, দীর্ঘ আট দশক পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নির্মমতার দায় স্বীকার করে পোল্যান্ডের কাছে ক্ষমা চাইল জার্মানি। শুধু জার্মান ভাষায় নয়, পোলিশদের সম্মানে তাদের ভাষায়ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন জার্মান নেতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি সর্বপ্রথম যে পোলিশ শহরে বোমা মেরেছিল, সেই ইয়েলুন শহরে দাঁড়িয়ে গতকাল রবিবার ক্ষমা চান জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক ওয়াল্টার স্টাইনমায়ার।

১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইয়েলুন শহরে বোমা ফেলার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছিল জার্মানি। ওই যুুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের প্রাণহানি হয়। এর মধ্যে পোল্যান্ডে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে যে ৬০ লাখ ইহুদি ছিল, তাদের অর্ধেক ছিল পোল্যান্ডের মানুষ।

নিহত পোলিশদের স্মরণ করে জার্মানির প্রেসিডেন্ট স্টাইনমায়ার গতকাল বলেন, ‘ইয়েলুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সামনে আমি মাথানত করছি। জার্মান নিষ্ঠুরতার শিকার পোলিশদের সামনে আমি মাথানত করছি। সেই সঙ্গে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানদের নিষ্ঠুরতাকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই, এমন ইঙ্গিত দিয়ে স্টাইনমায়ার বলেন, ‘পোল্যান্ডে জার্মানরা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। কেউ যদি সেটাকে অতীতের বিষয় অভিহিত করে থাকে অথবা কেউ যদি ইউরোপে জাতীয় সমাজতান্ত্রিকদের জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে জার্মান ইতিহাসের স্রেফ ক্ষুদ্র অংশ হিসেবে দাবি করে থাকে, তবে সেই ব্যক্তি নিজেই নিজের সমালোচনা করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘জার্মানির ফেডারেল প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই, আমরা (অতীত) ভুলব না। আমরা মনে রাখতে চাই এবং মনে রাখব। ইতিহাস আমাদের ওপর যে দায় চাপিয়েছে, তা আমরা বহন করব।’

স্টাইনমায়ার গতকাল ইয়েলুন শহরে উপস্থিত হয়ে পোল্যান্ডের কাছে ক্ষমা চাওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ জানান পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দজে দুদা। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এ অনুষ্ঠান পোলিশ-জার্মান বন্ধুত্বের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে।’ স্টাইনমায়ারকে ধন্যবাদ জানালেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে নািস বাহিনীর নির্মমতার সমালোচনা করতে ভোলেননি পোলিশ রাষ্ট্রপ্রধান। নািসদের হামলাকে তিনি ‘বর্বরোচিত’ অ্যাখ্যা দেন এবং সেটা ‘যুদ্ধপরাধ’ বলে মন্তব্য করেন।

ইয়েলুনে গিয়ে শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্যদানের মধ্যে স্টাইনমায়ারের কর্মসূচি সীমাবদ্ধ ছিল না। সেখানে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বেঁচে যাওয়া স্থানীয়দের সঙ্গে দেখা করা ও ইয়েলুন জাদুঘর পরিদর্শনও তাঁর কমসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া পরে রাজধানী ওয়ারসতে আরেক আয়োজনে এ দুই নেতার সঙ্গে খোদ জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল, তবে তাঁর দেশের দিকে ধেয়ে আসা ঝড় ডোরিয়ানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি শেষ মুহূর্তে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা বাদ দেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ৮০ বছর পূর্তিতে পোল্যান্ড আরো কিছু স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। গতকাল ওয়েস্টারপ্লেটে তেমনই এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাতাউশ মোরাভিয়েস্কি ও ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্স টিমারম্যানস।

গতকাল জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে পোল্যান্ডের কাছে ক্ষমা চাইলেও পোলিশদের ক্ষতিপূরণ প্রদান প্রশ্ন অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোল্যান্ডের মানবিক ও বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণে নেমেছে দেশটির পার্লামেন্টের সংশ্লিষ্ট কমিশন। ক্ষতিপূরণের দাবি প্রসঙ্গে গতকাল ওয়েস্টারপ্লেটে পোলিশ প্রধানমন্ত্রী মোরাভিয়েস্কি বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে আমাদের কথা বলতে হবে, সেটা স্মরণ রাখতে হবে এবং সত্যটা জানতে হবে। আমাদের ক্ষতিপূরণের দাবি করতে হবে।’

পোল্যান্ডের স্মরণ অনুষ্ঠানে ৪০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধানও রয়েছেন। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা