kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইরানি ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করল যুক্তরাষ্ট্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইরানের জ্বালানি তেলবাহী যে জাহাজ সিরিয়ায় যাচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করে। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় দাবি করেন, ইরানের একটি রকেট উেক্ষপণস্থলেই বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

গ্রেস ওয়ান নামের একটি ইরানি জাহাজ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সিরিয়ায় জ্বালানি তেল নিয়ে যাচ্ছিল, এমন অভিযোগে জুলাইয়ের প্রথম দিকে জিব্রালটার প্রণালি থেকে সেটি আটক করে ব্রিটিশ রয়াল মেরিন। জিব্রালটারে ছয় সপ্তাহ আটকে রাখার পর সেটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও সেটির আটকের মেয়াদ বাড়াতে জিব্রালটারের আদালতে আবেদন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরানের ওই জাহাজ আদ্রিয়ান দারিয়া নামে যাত্রা শুরু করে।

জাহাজটি আবার সিরিয়ার দিকেই যাত্রা করছে, এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত শুক্রবার টুইটারে বলেন, ‘আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য আছে, ওই ট্যাংকার সিরিয়ার তারতাসের দিকে যাচ্ছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুসারে জাহাজটি এখন কালো তালিকাভুক্ত। কেউ জাহাজটিকে সহায়তা করলে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার হুমকি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বের মধ্যে গত শুক্রবার আরেকটি টুইট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। টুইটে তিনি লেখেন, ‘ইরানের সেমনান লঞ্চ সাইটে সাফির এসএলভি (স্যাটেলাইট) উেক্ষপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মুহূর্তে ঘটা মারাত্মক বিস্ফোরণের সঙ্গে আমেরিকা জড়িত নয়।’ টুইটারে এ পোস্টের সঙ্গে তিনি বিস্ফোরণস্থলের একটি ছবিও প্রকাশ করেন। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার তোলা ওই ছবিটি উচ্চমাত্রার রেজল্যুশনের। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রকেট উেক্ষপণস্থলের অর্ধেকটা পোড়া। তবে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে পোড়া অংশটি বোঝা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উচ্চমাত্রার রেজল্যুশনের ছবিটি প্রকাশ হওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের ক্ষমতার বিষয়টি এবার ফাঁস হয়ে গেল।

এ বিস্ফোরণের ব্যাপারে ইরান সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরানের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ আজারি জাহরোমি টুইট পোস্টে বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কক্ষপথে স্যাটেলাইট স্থাপনের তৃতীয় চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বাস্তবতা হলো, নাহিদ ১ (স্যাটেলাইট) ঠিক আছে এবং সেটি গবেষণাগারেই আছে। প্রতিবেদকরা গবেষণাগারে এসে দেখেও যেতে পারেন।’ স্যাটেলাইটের ব্যাপারে টুইট করলেও উেক্ষপণস্থলে রকেট বিস্ফোরণের ব্যাপারে তিনি কিছু জানাননি।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে কাঙ্ক্ষিত কক্ষপথে স্যাটেলাইট স্থাপনে ব্যর্থ ইরান তৃতীয়বারের মতো চেষ্টা চালাচ্ছে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা