kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে ব্রিটেনে বিক্ষোভের ডাক

বিক্ষোভ ডাকা হয়েছে মূলত জনসনের চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকরের পরিকল্পনা ঠেকাতেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে ব্রিটেনে বিক্ষোভের ডাক

ব্রেক্সিট কার্যকর করার শেষ সপ্তাহগুলোতে পার্লামেন্ট মুলতবি রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গতকাল লন্ডনে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করে। ছবি : এএফপি

ব্রেক্সিট ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পরিকল্পনা ঠেকাতে ব্রিটেনজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় লন্ডনসহ ব্রিটেনের প্রায় ৩০টি শহরে এ বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, তারা যেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও সড়ক অবরোধ করে রাখে।

আগামী ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট (ইইউ ও যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) কার্যকর হওয়ার কথা। এরপর দুই পক্ষের সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে ইউয়ের সঙ্গে একটা চুক্তি করেছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। তবে চুক্তির কয়েকটি ধারা বিতর্কিত হওয়ায় সেটি তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস করাতে পারেননি। শেষমেশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয় তাঁকে। এরপর প্রধানমন্ত্রী হন জনসন; যিনি প্রয়োজনে কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট কার্যকরের পরিকল্পনা করছেন। আর এই পরিকল্পনায় যাতে বিরোধীরা বড় বাধা হয়ে না দাঁড়াতে পারে, সে জন্য রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে দিয়ে পার্লামেন্ট মুলতবি রেখেছেন তিনি।

গতকাল যে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে, তা মূলত জনসনের চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকরের পরিকল্পনা ঠেকাতেই। এরই মধ্যে অবশ্য জনসনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছেন বিরোধীরা। গতকালের বিক্ষোভের নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্টপদ্যকপ’। আয়োজকদের মধ্যে আছে ‘অ্যানাদার ইউরোপ ইজ পসিবল’ নামের একটি সংগঠনও। এর সদস্য মাইকেল চেসাম বলেন, ‘প্রতিবন্ধকতা তৈরি করাই এখন বিক্ষোভকারীদের মূল লক্ষ্য। এই প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়ে সরকার তাদের পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হবে।’

বিক্ষোভের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বামপন্থী সংগঠন ‘মমেন্টাম’। সংগঠনটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিরোধী দল ‘লেবার পার্টি’র বেশ ঘনিষ্ঠ। মমেন্টাম তাদের নেতাকর্মীদের বলেছে, তারা যাতে গুরুত্বপূর্ণ সব সেতু ও সড়ক অবরোধ করে রাখে।

বিক্ষোভকারীদের মূল জমায়েত হবে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় সেখানে বিক্ষোভকারীদের জড়ো হওয়ার কথা।

বিরোধীদের পাশাপাশি জনসনের কনজারভেটিভ পার্টির অনেক সংসদ সদস্যও চান না যে চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকর হোক। প্রয়োজনে ব্রেক্সিটের সময়সীমা আরো বাড়াতে চান তাঁরা। কিন্তু সময়সীমা বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব এখনো জনসনের সরকারের পক্ষ থেকে ইইউকে দেওয়া হয়নি। উল্টো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ সপ্তাহে অবশ্য ব্রাসেলসে যাওয়ার কথা রয়েছে জনসনের ব্রেক্সিটবিষয়ক উপদেষ্টা ডেভিড ফ্রস্টের।

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা