kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নিউ ইয়র্ক টাইমসে ইমরানের নিবন্ধ

কাশ্মীর নিয়ে অচলাবস্থা পরমাণু যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাশ্মীর নিয়ে অচলাবস্থা পরমাণু যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনোযোগ না দিলে এর পরিণতি পুরো বিশ্বকে ভুগতে হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। নিউ ইয়র্ক টাইমসে গত শুক্রবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

ইমরানের মতে, ‘কাশ্মীর ও সেখানকার জনগণের ওপর ভারতের হামলা বন্ধে বিশ্ব যদি কিছুই না করে, তবে পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ সম্মুখ সমরের খুব কাছাকাছি চলে যাবে, যার ফল ভুগতে হবে পুরো বিশ্বকে।’

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য তুলে ধরে ইমরান লিখেছেন, ‘আগ বাড়িয়ে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার যে নীতি ভারতের আছে, সেটার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর—এমন কথা বলে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তেমন কোনো রাখঢাক ছাড়াই পাকিস্তানকে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছেন। ভারতীয় নেতারা নিয়মিত বিরতিতে একই বক্তব্য দিয়েছেন।’ ভারতের পরমাণু অস্ত্রের নীতির ব্যাপারে পাকিস্তান যে আগে থেকেই সন্দিহান, সে কথা বলতে ভোলেননি এ সাবেক ক্রিকেটার।

সংকট সমাধানের উভয় পক্ষের আগ্রহের গুরুত্ব তুলে ধরে ইমরান লিখেছেন, ‘কাশ্মীর, বিভিন্ন কৌশলগত বিষয় ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চাইলে পাকিস্তান ও ভারতকে একতরফা মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ এ ব্যাপারে পাকিস্তান এরই মধ্যে কিছু পরিকল্পনা করেছে জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু কাশ্মীরিদের অধিকার নিশ্চিতের যে অঙ্গীকার করেছেন, সেটার প্রতি সম্মান দেখালে এরই মধ্যে প্রস্তুত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা সম্ভব।’ তবে কী ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটা খোলাসা করেননি পাকিস্তানের সরকারপ্রধান।

প্রতিবেশীর সঙ্গে আলোচনা শুরুর জন্য সরাসরি একটি শর্তও জুড়ে দিয়েছেন ইমরান। তিনি জানান, ‘কাশ্মীরকে অবৈধভাবে একীভূতকরণ থেকে ভারত সরে এলে, কারফিউ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে এবং সেনা সদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিলে তবেই আলোচনা শুরু করা যেতে পারে।’

শান্তি ফেরাতে ভারতের আগ্রহের ঘাটতি আছে—এমন অভিযোগ তুলে ইমরান লিখেছেন, ‘আমি যখন শান্তির প্রস্তাব দিচ্ছিলাম, তখন ভারত পাকিস্তানকে ইন্টারগভর্নমেন্টাল ফিন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের কালো তালিকাভুক্ত করতে লবিং চালিয়েছে, যার জেরে আমাদের ওপর মারাত্মক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে এবং আমরা দেউলিয়াত্বের দিকে চলে যেতে পারি।’

গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে সেখানে কেন্দ্রের শাসন জারি করে ভারত। কাশ্মীরিদের বিক্ষোভ ঠেকাতে সেখানে বাড়তি সেনা মেতায়েন করা হয়, সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং চালানো হয় ব্যাপক ধরপাকড়। এর বিরুদ্ধে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেওয়া ইমরান এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং জাতীয় পর্যায়েও চালাচ্ছেন বিভিন্ন কর্মসূচি। এর মধ্যে তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসে কাশ্মীর ইস্যুতে নিবন্ধ লেখেন। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা