kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

‘ব্রেক্সিটের জন্য জনসনই সঠিক মানুষ’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কখনো মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়নি। তবে এতে তাঁদের বন্ধুত্বে কোনো সমস্যা হয়নি। জনসনকে নিজের ছায়া হিসেবে বিবেচনা করেন ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই জনসন সম্পর্কে উচ্চ ধারণা ছিল তাঁর, যার ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত। গতকাল রবিবার ফ্রান্সে চলমান শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি৭-এর সম্মেলনের ফাঁকে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন এ দুই নেতা। বৈঠকে জনসনকে প্রশংসায় ভাসান ট্রাম্প। আবারও বলেন, ব্রেক্সিট কার্যকরের জন্য জনসনই সঠিক মানুষ। ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটেনের সঙ্গে ‘বড় চুক্তি’ স্বাক্ষরের আশ্বাসও দেন তিনি।

গতকাল সকালে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ব্রেক্সিট কার্যকর করার ব্যাপারে ট্রাম্পের পরামর্শ চান জনসন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তাঁর (জনসন) পরামর্শের কোনো প্রয়োজন নেই। এ কাজের জন্য তিনি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।’ এ ধরনের বক্তব্য জনসনের পূর্বসূরি টেরেসা মে সম্পর্কে কখনোই তিনি করেননি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বহু আগে থেকেই এ কথা বলছি।’

জনসন এ বৈঠকে ট্রাম্পের প্রতি যুক্তরাজ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েছে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। জনসন বলেন, কিছু আইনগত বিধিনিষেধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যপণ্য রপ্তানি করতে পারে না ব্রিটেন।

এ সময় জনসনকে আশ্বস্ত করে ট্রাম্প বলেন, তাঁরা ব্রিটেনের সঙ্গে বড় একটি চুক্তি করার ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমার ধারণা, এই চুক্তি কাজ করবে।’ ট্রাম্প বলেন, খুব বড় বাণিজ্যচুক্তি হবে। বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে তা চার বা পাঁচ গুণ বিস্তারিত হবে। খুব শিগগির এ চুক্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানান ট্রাম্প।

পরে জনসন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করার জন্য ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। খুব হালকা চালে একটু সমালোচনাও করেন তিনি। জনসন মনে করেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে বাণিজ্য দ্বৈরথ চলছে, তা বাণিজ্যব্যবস্থায় উত্তেজন বাড়াবে। জনসন ট্রাম্পকে বলেন, ‘সার্বিকভাবে আমরা শান্তিপূর্ণ বাণিজ্য চাই।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য গত ২০০ বছরে মুক্তবাণিজ্য থেকে বড় ধরনের মুনাফা করেছে।’

এ সময় ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র জাপানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। পাঁচ মাস ধরে তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।’

জনসনের সঙ্গে বৈঠকের পরপরই জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল ট্রাম্পের। আর জনসন মুখোমুখি হবেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের। এর মাত্র এক দিন আগেই এ দুই ব্যক্তি চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের দায়-দায়িত্ব নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা