kalerkantho

কঠোর বাস্তবতায় কাটল ইমরানের এক বছর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কঠোর বাস্তবতায় কাটল ইমরানের এক বছর

নির্বাচনী প্রচারকালের ৩৪টি অঙ্গীকারের মধ্যে মাত্র তিনটি পূরণ করতে পেরেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এর ওপর যে কাজ করবেন না বলে পণ করেছিলেন, সেটা তাঁকে করতেই হয়েছে। দেশে এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টাও ছিল, যদিও তাতে কতটা সাফল্য এসেছে, তা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে কেটেছে ইমরানের প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম বছর।

পর্যবেক্ষকদের অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরান প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে দুই দশক ধরে গুটিসুটি মেরে এগোতে থাকা এ নেতা গত বছর জুলাইতে সরকারপ্রধানের পদ নিশ্চিত করেন। এর পেছনে সেনাবাহিনীর হাত ছিল বলে সমালোচকদের অভিযোগ। সঙ্গে এমন অভিযোগও আছে, দেশে এবং বিদেশে সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারায় নিজেকে উপস্থাপন করেন তিনি।

দেশের অর্থনীতির গতি ফেরানো ইমরানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং সেটা মোকাবেলায় তিনি মুখ থুবড়ে পড়েছেন বলে মনে করেন সমালোচকরা। ক্ষমতাগ্রহণের প্রথম আট মাসের মধ্যে তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও চীন সফর করে ৯০০ কোটি ডলার ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু সে অর্থ দিয়ে তিনি অর্থনীতিকে গতিশীল করতে পারেননি। উল্টো মুদ্রাস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপর উঠে গেছে। পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতির হার দুই অঙ্কের ঘরে উঠেছিল সর্বশেষ ২০১৩ সালে।

অর্থনীতির এমন পড়ন্ত অবস্থা ঠেকাতে গিয়ে ইমরান নির্বাচনী ওয়াদা ভঙ্গ করতে বাধ্য হন। তিনি বলেছিলেন, জীবন গেলেও তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ধার নেবেন না। এমন কঠোর অঙ্গীকার ভেঙে তিনি গত মাসে আইএমএফের কাছ থেকে ৬০০ কোটি ডলার ঋণ গ্রহণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন।

এবার আসা যাক ইমরানের আমলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে। তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধীদের শক্ত হাতে দমন করার অভিযোগ রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তাঁর পরিবারের আরো দুই সদস্যসহ কমপক্ষে ১৩ জন শীর্ষ রাজনীতিক বর্তমানে বিভিন্ন অভিযোগে কারাবন্দি।

বিদেশে অবশ্য নিজেকে সব সময় অত্যন্ত উদারপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন ইমরান। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর টেলিভিশনে সম্প্রচারিত প্রথম ভাষণে তিনি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপনে সর্বোচ্চ আগ্রহের কথা বলেন, যদিও বর্তমানে এ দুই প্রতিবেশীর শত্রুতা কাশ্মীর ইস্যুতে চরমে রয়েছে। এ ছাড়া সব ধরনের অনুমানের বাইরে গিয়ে তিনি গত বছর বিশকেক সম্মেলন উপলক্ষে কিরগিজস্তানে গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ক্ষমতাধর নেতাদের সঙ্গে এসব বৈঠকে প্রদর্শনী ছাড়া আর কোনো লাভ আছে বলে মনে করেন না পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক বন্ধুত্বপূর্ণ মনে হলেও পাকিস্তানের ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে নীতিগত কোনো পরিবর্তন আসবে না।

এই যখন অবস্থা, তখন ইমরানের প্রধানমন্ত্রিত্বের পরের বছরগুলোর ব্যাপারে বিশ্লেষকরা সন্দিহান। তাঁর ক্ষমতাসীন হওয়া, টিকে থাকা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সাফল্য নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর জবাব তিনি দিতে পারবেন কি না, সেসব নিয়ে ভাবছেন তাঁরা।

সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য