kalerkantho

জি-৭ সম্মেলন

ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা কমাতে ম্যাখোঁর চেষ্টায় পানি ঢাললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র যে শুধু চুক্তি থেকে সরে গেছে তা নয়; এর পর থেকে ইরানের ওপর উপর্যুপরি নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করতে থাকে তারা। ফলে ইরানের তেল রপ্তানি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা কমাতে ম্যাখোঁর চেষ্টায় পানি ঢাললেন ট্রাম্প

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমের বিয়ারিৎস শহরে চলমান তিন দিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন রবিবার বৈঠককালে সংশ্লিষ্ট নেতারা এ ফটোসেশনে অংশ নেন। জোটের সদস্য কানাডা, ইতালি, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে এ বৈঠকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কও অংশ নেন। ছবি : এএফপি

ইরান ইস্যু নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব আর উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা চলছে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। এই উত্তেজনা নিরসনে শুরু থেকেই চেষ্টা চালিয়ে আসছে ইউরোপীয়রা। তবে তাদের সেই চেষ্টা মাঠে মারা গেছে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর সম্মেলন জি-৭-এর স্বাগতিক দেশ হিসেবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ আবারও ইরানবিষয়ক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনাগ্রহে ভেস্তে গেল সেই উদ্যোগটিও। ম্যাখোঁর প্রস্তাবে বাকি ছয়টি দেশ সাড়া দিলেও ট্রাম্প বলেন, এমন কোনো আলোচনায় যোগ দেননি তিনি। ট্রাম্প আরো বলেন, ‘মানুষকে কথা বলা থেকে বিরত রাখা যায় না। তারা যদি কথা বলতে চায়, বলুক।’

ইরান নিয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই। গত বছর মে মাসে ইরানের সঙ্গে করা পশ্চিমা দেশগুলোর পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং স্বাভাবিক বাণিজ্য সম্পর্কের বিনিময়ে ইরানকে পরমাণু প্রকল্প আরো উন্নত করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র যে শুধু চুক্তি থেকে সরে গেছে তা নয়; এর পর থেকে ইরানের ওপর উপর্যুপরি নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করতে থাকে তারা। ফলে ইরানের তেল রপ্তানি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতি এড়াতে এবং ইরানকে চুক্তির শর্তের মধ্যে রাখতে শুরু থেকে চেষ্টা চালিয়ে আসছে ইইউ। তবে সফল হয়নি। এবার ম্যাখোঁ প্রস্তাব দেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তা কিছুটা শিথিল করার বিনিময়ে চুক্তির শর্তগুলো ১০০ভাগ মেনে চলুক ইরান।

প্রস্তাবটি নিয়ে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের সঙ্গে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে গত শুক্রবার প্যারিসে বৈঠক করেন। পরে প্রস্তাবের বিস্তারিত টেলিফোনে অবহিত করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে। ম্যাখোঁর এই কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে ইরানের সম্মতি পাওয়া সম্ভব হয়।

ফ্রান্সের বিয়ারিেজ চলমান জি-৭ সম্মেলনে এ নিয়ে আলোচনা ওঠে গতকাল। এতে বাকি ছয় সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতি মিললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, এ আলোচনায় তিনি ছিলেন না। সম্মেলনের ফাঁকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘এ নিয়ে ম্যাখোঁর সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।’ যদিও এলিসি প্রাসাদ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জি-৭-এর সদস্যরা ম্যাখোঁর প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে।

এর আগে গত জুন মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেও ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূতিয়ালির চেষ্টা করেন। তাঁকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আবে যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তার প্রতিও আমার সমর্থন ছিল। কারণ তিনি ইরানের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এর পরও এ ধরনের উদ্যোগের প্রতি আমাদের সমর্থন থাকবে। তবে আপনি মানুষের কথা বলা বন্ধ করতে পারবেন না। যদি তারা কথা বলতে চায়, বলুক।’

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিতে অব্যাহত থাকতে চায়। এবারের সফরেও ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে নিয়ে গেছেন। বোল্টন ইরানকে চাপে রাখার সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় সমর্থক।

এখনই রাশিয়ার সদস্যপদ নয় : ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে ২০১৪ সালে রাশিয়াকে এই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এবার জি-৭ নেতাদের রাশিয়া প্রসঙ্গে অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। তাদের পুতিন সরকারের সঙ্গে সংগঠনের সম্পর্ক জোরদারের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তবে মস্কোকে এখনই ফের সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত করতে চায় না তারা।

চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে সংগঠনে ফাটল ধরেনি : ট্রাম্প : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল দাবি করেছেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দ্বন্দ্বের কারণে জি-৭ সংগঠনে কোনো ফাটল ধরেনি। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, বাণিজ্য লড়াইয়ের ব্যাপারে এই সংগঠনের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে।’ এটা হওয়ারই ছিল। অন্য নেতারা এর সমালোচনা করছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তেমন কিছু শুনিনি।’

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়েও অসন্তোষ : উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প এও দাবি করেন যে তারা (উত্তর কোরিয়া) চুক্তি লঙ্ঘন করেনি। সূত্র : এএফপি, গার্ডিয়ান।

মন্তব্য