kalerkantho

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের অভিযোগ

এনজিওর কারণেই আমাজনে আগুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এনজিওর কারণেই আমাজনে আগুন

ব্রাজিলের চিরহরিৎ আমাজন জঙ্গলের নভো এইরাও অংশে গত বুধবার আগুন ধরে গেলে বনের বিশাল অংশ পুড়ে যায়। ছবি : রয়টার্স

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জার বোলসোনারো জানিয়েছেন, তাঁর দেশে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল আমাজনে আগুন দিয়েছে। গত বুধবার সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, সম্ভাবত আর্থিক বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার কারণেই আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ কথার সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি ৬৪ বছর বয়সী কট্টর ডানপন্থী এ নেতা। এদিকে আমাজন রক্ষায় গত বুধবার হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করে টুইট করেছে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। 

বোলসোনারো এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জাতিসংঘের আঞ্চলিক বৈঠক আয়োজন করছে ব্রাজিল। চিলিতে ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনকে সামনে রেখে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ব্রাজিলে এই বছর ৭২ হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৮৪ শতাংশ বেশি। দেশটির  মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চের মতে, এই বছর লাগা আগুনের অর্ধেকের বেশি আমাজন বনাঞ্চলে ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, কিছু এলাকায় সরকারের আইন প্রয়োগের দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা বনটিতে ‘প্রতিদিনই আগুন’ দিচ্ছে।

বুধবার সংবাদিকদের বোলসোনার বলেন, আর্থিক বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার কারণেই ‘ওই সব এনজিও ফৌজদারি অপরাধ করছে। যাতে করে আমার ও ব্রাজিল সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। মূলত এই মুহূর্তে আমরা যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগুন খুবই কৌশলগত জায়গায় লাগানো হচ্ছে। সব কিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে, তারা (এনজিও) সেখানে ছবি তুলতে গিয়ে আগুন লাগিয়ে ফিরছে। আর এটি আমি বিশ্বাস করি।’

এদিকে প্রেসিডেন্টের করা মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা। ব্রাজিলিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব এনজিওসের ক্যামিলা ভিগা বলেন, ‘কৃষিকাজের জন্য পরিবেশ উজাড় করা  নীতির কারণে আগুন লেগেছে।’ তবে ব্রাজিলের পরিবেশ মন্ত্রী রিকার্ডো সেলস জানান, অবৈধভাবে বনাঞ্চল উজার রোধ করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য