kalerkantho

জনসনকে ম্যাখোঁ

ব্রেক্সিট চুক্তিতে বড় পরিবর্তন আনার সুযোগ নেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রেক্সিট চুক্তিতে বড় পরিবর্তন আনার সুযোগ নেই

ব্রেক্সিট কার্যকর করার জন্য সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যে চুক্তি করে গেছেন, তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। পাশাপাশি তিনি এটাও বলেছেন, আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়াল্যান্ড ইস্যুতে ‘ব্যাকস্টপ অপরিহার্য’।

ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্য মের উত্তরসূরি বরিস জনসন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ম্যাখোঁর সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার কথা বলেন। জনসনের এ বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল নতুন করে ব্রেক্সিট আলোচনা শুরুর জন্য ম্যাখোঁকে রাজি করানো। কিন্তু ম্যাখোঁ গতকালের বৈঠকের আগেই নতুন করে ব্রেক্সিট আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন। গতকালও তিনি একই মনোভাব জানান।

প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর মতে, ব্রেক্সিট চুক্তির জন্য আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়াল্যান্ড ইস্যুতে সমাধান টানা অপরিহার্য। বলা দরকার, ইইউর সঙ্গে মে যে চুক্তি করে গেছেন, সে অনুসারে ব্রেক্সিট কার্যকর হলেও ওই দুই আইরিশ ভূখণ্ডের মধ্যে বাণিজ্য আগের মতোই অব্যাহত থাকবে, যেটাকে ব্যাকস্টপ অভিহিত করা হয়।। কিন্তু জনসন এ ব্যাকস্টপের ঘোরবিরোধী। গতকাল তিনি ম্যাখোঁর সঙ্গে বৈঠকেও এ অবস্থান বজায় রাখেন। জবাবে ম্যাখোঁ ব্যাকস্টপ অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন।

ম্যাখোঁ আরো বলেন, ব্রেক্সিট চুক্তিতে পরিবর্তন আনার জন্য ৩০ দিনের চ্যালেঞ্জ দেওয়া হলেও আগের চুক্তির সঙ্গে পরিবর্তিত চুক্তির খুব বেশি পার্থক্য থাকা যাবে না। চুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলে তা ইইউ মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন এ ফরাসি নেতা।

বলা দরকার, ব্রেক্সিট নিয়ে অচলাবস্থা নিরসনে গত বুধবার সম্ভাব্য একটি পথের ইঙ্গিত দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। পরদিনই প্যারিসে ম্যাখোঁ জার্মান নেতার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

জনসনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ম্যাখোঁ ব্রেক্সিট নিয়ে আরো কিছু মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, যুক্তরাজ্যে নতুন নির্বাচন কিংবা গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকরের ক্ষেত্রে দেরি করার কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।

২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যে গণভোটের মাধ্যমে ব্রেক্সিট তথা ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগের পক্ষে মত দেয় ব্রিটিশরা। গণভোটের তিন বছর পেরিয়ে গেলে কখন, কী প্রক্রিয়ায় ব্রেক্সিট কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর জনসন চলতি বছরের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেন এবং প্রয়োজনে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট কার্যকরের হুমকি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের অধিকাংশ দেশই যখন কোনো ধরনের ‘চুক্তি ছাড়া’ ব্রেক্সিট কার্যকরের আশঙ্কায় শঙ্কিত, তখন চলতি সপ্তাহে নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেমেছেন ইউরোপকে ফের আলোচনায় উদ্যোগী করতে।

এর মধ্যে গত বুধবার জার্মান চ্যান্সেলর মার্কেল যুক্তরাজ্যকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত সংকট নিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইইউর সঙ্গে কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে এ বিষয়টিই যুক্তরাজ্যের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা।

মার্কেলের এই চ্যালেঞ্জকে অবশ্য ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা। ইইউ ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনায় অস্বীকৃতি জানানোর অবস্থান থেকে খানিকটা সরে এসেছে বলেও ধারণা তাঁদের।

মার্কেলের ওই বক্তব্যের ঘণ্টাখানেক পর ম্যাখোঁ ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউর আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করে বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে জনসনের পূর্বসূরির সঙ্গে ইউরোপের নেতাদের যে চুক্তি হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ নেই। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মের সঙ্গে ইইউর ওই ব্রেক্সিট চুক্তি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে তিন দফা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ফ্রান্স এখন ‘চুক্তি ছাড়াই’ ব্রেক্সিট সম্পন্ন হওয়ার বেশি সম্ভাবনা দেখছে। সূত্র : বিবিসি।

 

মন্তব্য