kalerkantho

আরো কড়া অবস্থানে ভারত

‘কথা হবে শুধু পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর নিয়ে’

কাশ্মীর থেকে নজর অন্যদিকে ফেরাতে ভারত পরমাণু যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে : ইমরান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘কথা হবে শুধু পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর নিয়ে’

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের প্রধান শহর শ্রীনগরে গতকাল সেনা টহল চলাকালে ট্রাকে দাঁড়ানো সতর্ক এক সেনা সদস্য। ছবি : এএফপি

উত্তরোত্তর বাড়ছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা। কোনো পক্ষের মধ্যেই সংযমের প্রচেষ্টা দৃশ্যমান নয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গতকাল রবিবার ধারাবাহিক কয়েকটি টুইটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে লক্ষ্য করে সমালোচনার তীর ছোড়েন। ইমরান বলেন, ‘কাশ্মীর থেকে নজর অন্যদিকে ফেরাতে পরমাণু যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে ভারত।’ এ ব্যাপারে তিনি বিশ্বকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে শুধু একটি বিষয় নিয়েই আলোচনা হতে পারে; আর তা হলো পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর।’

ভারতের হরিয়ানায় ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ‘জান আশীর্বাদ যাত্রায়’ গতকাল এ কথা বলেন রাজনাথ। তিনি আরো বলেন, ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর মধ্য দিয়ে ভারতকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায় পাকিস্তান। সন্ত্রাসীদের সহায়তা বন্ধ এবং সন্ত্রাস বন্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের  সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। তা ছাড়া ভবিষ্যতে আমাদের যদি কোনো আলোচনায় বসতেই হয় তাহলে তা হবে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর প্রসঙ্গে।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তানিরা মনে করে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হওয়া উচিত। কিন্ত কী নিয়ে আমরা কথা বলব? কী বিষয় আছে, যা নিয়ে কথা বলা যায়? কেন আলোচনা করতে হবে?’

গত ৫ আগস্ট ভারত বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া ৩৭০ ধারা রদ করে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করার পর থেকে পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার রাজনাথ সিং মন্তব্য করেন, ‘ভারত প্রথমেই পরমাণু হামলা না চালানোর নীতিতে অটল রয়েছে। তবে ভবিষ্যতের কথা বলা যায় না।’ মূলত ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ মন্তব্যের পর থেকে অস্থিরতা বাড়তে থাকে পাকিস্তান পক্ষে। পরদিনই ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি এবং সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর। সেখানে জানানো হয়, ‘ভারত যদি বাড়াবাড়ি করে তাহলে পাকিস্তান তার সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত।’ ভারত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গত শুক্রবার কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে সফল আলোচনা হয়েছে। যা ভারতকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। যদিও নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনাটি আনুষ্ঠানিক ছিল না এবং বিষয়টি নিয়ে পরিষদ কোনো বিবৃতিও দেয়নি। কোরেশি অবশ্য ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

এমন এক পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল পরমাণু অস্ত্রের ইস্যুটি নিয়ে সরব হলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। লাগাতার টুইটে ইমরান বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে ভারতের পরমাণু অস্ত্র এখন ফ্যাসিবাদী, বর্ণবাদী, হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী মোদি সরকারের হাতে। যার প্রভাব শুধু এই অঞ্চলের ওপরই নয়, পুরো বিশ্বের ওপর পড়বে।’ আরেকটি টুইটে তিনি কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। ইমরান ভারত সরকারকে জার্মানির নাৎসির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যে কেউ সার্চ ইঞ্জিন গুগলে ঢুকে একটু খোঁজ নিলেই নাৎসি এবং ফ্যাসিবাদী, বর্ণবাদী, হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী ভারত সরকারের আদর্শ ও নেতৃত্বের মধ্যে সাদৃশ্য খুঁজে পাবে।’ দুই সপ্তাহ ধরে কাশ্মীরের ৯০ লাখ মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কাশ্মীরে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক মোতায়েনেরও দাবি তোলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

কাশ্মীরে আহত ৮

কাশ্মীরের শ্রীনগরে শনিবার বিক্ষোভে আটজন আহত হয়েছে। এরপর শহরের বেশ কিছু এলাকায় আবারও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা করে ভারত। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার বেশ কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ হয়। এদিকে কর্মকর্তারা গতকাল জানান,  দুই সপ্তাহ আগে এ অঞ্চলে যে কড়াকড়ি আরো করা হয়েছিল, কিছু কিছু এলাকা থেকে তা ক্রমেই তুলে নেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু এলাকার টেলিফোন এক্সচেঞ্জ খুলে দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু স্কুল আজ সোমবার থেকে খুলে যাবে।  সূত্র : ডন, এএফপি, পিটিআই, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য