kalerkantho

ইমরানকে টেলিফোন ট্রাম্পের

দুই পক্ষ বসে কাশ্মীর সংকট সমাধান করুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই পক্ষ বসে কাশ্মীর সংকট সমাধান করুন

দুই সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে শতাধিক টেলিফোন এক্সচেঞ্জের মধ্যে ১৭টি গতকাল খুলে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেই ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে মানুষের আনাগোনা। গতকালের ছবি। ছবি : এএফপি

দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর সংকটের সমাধান টানার ওপর জোর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় তিনি এ অভিমত জানান। কাশ্মীর সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) বৈঠকের আগে এ দুনেতা ফোনে কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হোগান গিডলি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা নিরসনের জন্য ভারত ও পাকিস্তান যেন দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসে, সেটার ওপর জোর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।’

এ দুনেতার কথপোকথনের ব্যাপারে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেন, ‘কাশ্মীরের ভারত অংশের পরিস্থিতি কতটা স্পর্শকাতর, কতটা উদ্বেগজনক, কতটা ভীতিকর ছিল এবং এখন কী অবস্থা, ভারতের আকস্মিক একতরফা পদক্ষেপে আমরা কতটা উদ্বিগ্ন এবং এতে এ অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা কতটা হুমকির মধ্যে আছে, সেসব ব্যাপারে তাকে (ট্রাম্পকে) অবহিত করেছেন তিনি (ইমরান)।’

কাশ্মীর ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে পাকিস্তানের সরকারপ্রধান ইমরান মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে ফোন করে এসব উদ্বেগের কথা জানান। নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তান ও চীনের পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাতে ওই বৈঠক হয়। দুদেশের অনুরোধ রক্ষা করে এ বৈঠক করায় নিরাপত্তা পরিষদকে স্বাগত জানান ইমরান। এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মারাত্মক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করায় ইউএনএসসিকে আমি স্বাগত জানাই। কাশ্মীরি জনগণের দুর্দশার ইতি টানা এবং এ বিতর্কের সমাধান নিশ্চিত করা এ বিশ্ব সংগঠনের দায়িত্ব।’

এছাড়া গতকাল পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আসিফ গফুরের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোরেশি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে কাশ্মীর ইস্যুতে ডেস্ক খোলা হচ্ছে। কাশ্মীরিদের অধিকার আদায়ের পক্ষে সমর্থন নিশ্চিত করতে পাকিস্তান এ উদ্যোগ নিচ্ছে বলে তিনি জানান।

কাশ্মীর ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকটি ছিল অনানুষ্ঠানিক, পরিষদ এমনটা বলার পরও বৈঠক হওয়ার ঘটনাকে নিজেদের সাফল্য হিসেবে দেখছে পাকিস্তান। অন্যদিকে ভারত এ বৈঠককে একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি। ভারত সবসময়ই বলে আসছে, কাশ্মীর অভ্যন্তরীণ ইস্যু এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান টানতে হবে। এমন অবস্থানের বিপরীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাশ্মীর বিষয়ক আলোচনা ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ফলে গত শুক্রবারের বৈঠকের ব্যাপারে বিরক্তি প্রকাশ করে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আকবরউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের জীবন কিভাবে চলবে, সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীর পরামর্শ আমাদের প্রয়োজন নেই।’

কাশ্মীর ইস্যুতে ১৯৭১ সালে একবার বৈঠকে বসেছিল নিরাপত্তা পরিষদ। ওই বৈঠকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবও পাস হয়। পরের বছর ভারত ও পাকিস্তান সিমলা চুক্তির মধ্য দিয়ে কাশ্মীর ইস্যুকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় ঘোষণা করে। ওই চুক্তির পর থেকে কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে এবার ভারত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে সেখানে কেন্দ্রের শাসন চালু করায় সংকট গুরুতর আকার ধারণ করেছে। সূত্র: এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা