kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

সৌদি আরব

হেফাজতে নির্যাতন করা হয়নি বললেই মুক্তি!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌদি আরবে কারাবন্দি একজন নারী অধিকার কর্মীর পরিবার অভিযোগ করছে, ওই অধিকারকর্মীকে আটক অবস্থায় নির্যাতন করা হয়নি—এমন বক্তব্য দিলে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে। রাষ্ট্রবিরোধী অপশক্তির সঙ্গে তিনি ষড়যন্ত্র করেছেন—এমন অভিযোগে এই বছরের মার্চে কারাবন্দি অ্যাক্টিভিস্ট লুজেইন আল হাথলুলকে আরো ৯ জন অধিকারকর্মীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার আদায়ে লুজেইন আল হাথলুলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

নির্যাতনের অভিযোগ

ব্রাসেলসে বসবাসকারী তাঁর বোন লিনা আল হাথলুল মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘আমি এ বিষয়ে লিখে হয়তো ঝুঁকি নিচ্ছি। হয়তো এতে আমার বোনের ক্ষতি হবে কিন্তু আমার পক্ষে এ ব্যাপারে কিছু না বলে আর থাকা সম্ভব হচ্ছে না। লুজেইনকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে বলা হয়েছে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে কি না, এ বিষয়টি তিনি যদি অস্বীকার করেন তবে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘আবারও বলছি, লুজেইনকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।’ তাঁর পরিবার এর আগেও শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে, যা সৌদি সরকার প্রত্যাখ্যান করে আসছে। এই অভিযোগের ব্যাপারে দেশটির কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে এখনো কিছু বলেনি। লুজেইন হাথলুল সৌদি আরবে নারী অধিকার বিষয়ে পরিচিত একটি মুখ।

অনেক সমালোচনার মুখে এ বছরের জুন মাসে সৌদি আরব গাড়ি চালানোর ব্যাপারে নারীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। সৌদি নারীদের ‘পুরুষ অভিভাবক’ সম্পর্কিত একটি আইনও এই মাসে কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। ওই আইন অনুযায়ী একজন নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার কোনো পুরুষ আত্মীয়, অর্থাৎ বাবা, ভাই, স্বামী ও ছেলের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। সম্প্রতি ওই আইনের একটি ধারা পরিবর্তিত হয়েছে, যেখানে বলা ছিল—দেশের বাইরে কোথাও যেতে হলে সঙ্গে করে তাদের কাউকে নিয়ে যেতে হবে। এসব আইনের পরিবর্তন হতে থাকলেও এগুলো পরিবর্তনের জন্য আন্দোলনে যাঁদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগ এখনো কারাগারে আটক রয়েছেন। আটকদের মধ্যে এ পর্যন্ত চারজন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী কারাগারে তাঁদের বিদ্যুতের শক, চাবুক দিয়ে পেটানো ও যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত বছর তুরস্কে সৌদি দূতাবাসে সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সৌদি আরবকে আরো কঠোরভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য সমালোচনা করা হচ্ছে। এসব সমালোচনার ব্যাপারে সৌদি আরবের উত্তর হলো, ‘মানবাধিকারের নাম করে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে।’

মন্তব্য