kalerkantho

কাশ্মীর বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক চায় পাকিস্তান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাশ্মীর বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক চায় পাকিস্তান

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় ভারতের পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যেই তালেবান জঙ্গি দমনে নিয়োজিত পাকিস্তানের পশ্চিমে আফগানিস্তান সীমান্ত থেকে সৈন্য সরিয়ে পূর্বাঞ্চলে কাশ্মীর সীমান্তে সেনা পুনর্মোতায়েনের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত। কাশ্মীর ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় এ হুমকি দেওয়া হয়। মার্কিন গণমাধ্যম এটিকে পাকিস্তানের ‘আফগানিস্তানের বিনিময়ে কাশ্মীর কার্ড’ বলে অভিহিত করেছে।

গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিকে এক চিঠিতে কাশ্মীর বিষয়ে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ করেন। এতে তিনি বলেন, পাকিস্তান যুদ্ধের উসকানি দেবে না। কিন্তু ভারত যেন তাদের সংযমকে দুর্বলতা না ভাবে।

এ বিষয়ে এক ভিডিও বার্তায় কুরেশি বলেন, তিনি জাতিসংঘে নিয়োজিত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মালিহা লোধির মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি বরাবর আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া একই চিঠি নিরাপত্তা পরিষদের অন্য সদস্যদেরও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি চিঠিতে অনুরোধ করে বলেছি ভারতের পদক্ষেপের বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা উচিত। কারণ আমরা মনে করি, এটি ভারতের অবৈধ পদক্ষেপ এবং এর মাধ্যমে জাতিসংঘ প্রস্তাব লঙ্ঘন করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার খর্ব করা ভারতের ভুল পদক্ষেপ এবং পাকিস্তান কাশ্মীরি জনগণের প্রতি একাত্ম থাকবে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে পোল্যান্ড।

তালেবান কার্ড খেলবে পাকিস্তান : যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজিদ খান হুমকি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান তার পশ্চিমে আফগানিস্তান সীমান্ত থেকে সৈন্য সরিয়ে কাশ্মীর সীমান্তে পুনর্মোতায়েন করতে পারে। কাশ্মীর ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে সহযোগিতা না পেয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে রাষ্ট্রদূত বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় আফগানিস্তান সীমান্তে তালেবান জঙ্গি দমনে পাকিস্তান এই অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন রেখেছে কয়েক বছর ধরে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় লাভের জন্য এই আফগানিস্তানের কার্ড খেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সোমবার নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দেন আসাদ মাজিদ খান। তবে তিনি দাবি করেন, এই চিন্তার সঙ্গে আফগানিস্তান ইস্যুর কোনো সম্পর্ক নেই। কাশ্মীর ও আফগান তালেবান আলাদা বিষয়।

কাশ্মীর ও পাকিস্তান অভিন্ন—পাক প্রেসিডেন্ট : পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি বলেছেন, পাকিস্তান ও কাশ্মীর এক। এ দেশ ও জনগণ সব সময়ই কাশ্মীরি জনগণের পক্ষে থাকবে। গতকাল ইসলামাবাদে দেশটির স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারত শুধু জাতিসংঘ প্রস্তাব লঙ্ঘনই করেনি, একই সঙ্গে সিমলা চুক্তিও লঙ্ঘন করেছে। তিনি পাকিস্তানকে শান্তিকামী দেশ দাবি করে বলেন, তিনি চান আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর বিতর্কের সমাধান করা। তবে ভারত যেন পাকিস্তানের শান্তির নীতিকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, গতকাল ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসকে কাশ্মীরিদের প্রতি সংহতি দিবস এবং আজ ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করবে।

ভারতের স্বাধীনতা দিবসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে : কাশ্মীর উপত্যকায় চলাফেরার ওপর বিধি-নিষেধ শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছেন কাশ্মীরের গভর্নর সত্যপাল মালিক। তবে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নই থাকবে। গকাল সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এক কথা বলেন। 

গত ৫ আগস্ট ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়। ওই দিন সকাল থেকে রাজ্যে অচলাবস্থার মধ্যে পড়ে। দোকান, স্কুল, কলেজ ও অফিস বন্ধ রাখা হয়। রাস্তাঘাটে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সত্যপাল আরো বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই সব জিনিস (টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট) শত্রুকে ব্যবহার করা সুযোগ করে দিতে চাই না। এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। তারপর ধীরে-সুস্থে যোগাযোগব্যবস্থা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’ সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য