kalerkantho

কাশ্মীর নিয়ে অস্থিরতা

সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে না পাকিস্তান

কড়া নজরদারির মধ্যে জুমার নামাজ আদায় কাশ্মীরে, বন্ধ ছিল শ্রীনগরের প্রধান মসজিদ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে না পাকিস্তান

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে গতকাল নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ করে অধিকারকর্মীরা। ছবি : এএফপি

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা পাকিস্তানের নেই। বরং কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চায় তারা। গতকাল শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি এ কথা জানিয়েছেন।

গত সোমবার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে দেয় ভারত। এ ছাড়া জম্মু-কাশ্মীর থেকে আলাদা করে লাদাখকে ঘোষণা করা হয় কেন্দ্রশাসিত নতুন এক অঞ্চল হিসেবে, যার কোনো বিধানসভা থাকবে না। আর জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা রাখা হলেও কেড়ে নেওয়া হয় পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা।

এ ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কে। গত বুধবার ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করে পাকিস্তান। সেই সঙ্গে নয়াদিল্লি থেকে প্রত্যাহার করে নেয় নিজেদের হাইকমিশনারকে। স্থগিত ঘোষণা করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক। সাংস্কৃতিক সম্পর্কও ছিন্ন করে পাকিস্তান। এ অবস্থায় কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপও নেবে কি না, সেই প্রশ্ন ওঠে জোরালোভাবে।

গতকাল পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেহমুদ কুরেশি বলেন, ‘আমরা সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছি না। বরং কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনি পথে আমরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাই।’ তবে ভারত কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলে কড়া জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্ত বাহিনী জনসংযোগ দপ্তরের ডিজি মেজর জেনারেল আসিফ গফুর। তিনি বলেন, ‘ভারত এবার কিছু করলে ২৭ ফেব্রুয়ারির চেয়েও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের একটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করেছিল পাকিস্তান।

গত বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, কাশ্মীরের পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গিবাদ দমনের জন্য সেখানকার বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ‘আমার পূর্ণ বিশ্বাস, আমরা এখন কাশ্মীরকে জঙ্গিবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারব।’ মোদি মনে করেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ব্যবহার করে পাকিস্তান সেখানে জঙ্গিবাদকে সমর্থন দিত।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এ পর্যন্ত যে তিনবার যুদ্ধ বেধেছে, তার দুটি কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে। তবে উভয় দেশ পরমাণু অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জনের পর কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি। দশকের পর দশক ধরে পুরো কাশ্মীরের মালিকানা দাবি করে আসছে ভারত ও পাকিস্তান। যদিও উভয় দেশই কাশ্মীরের পৃথক দুটি অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে গতকাল হাজার হাজার ভারতীয় সেনার কড়া নজরদারির মধ্যে জুমার নামাজ আদায় করে কাশ্মীরের মুসল্লিরা। ছোট ছোট কয়েকটি মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি মিললেও বন্ধ ছিল শ্রীনগরের প্রধান মসজিদ। এ ছাড়া কাশ্মীরে গত রবিবার থেকে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট সংযোগ গতকাল পর্যন্ত চালু হয়নি। স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছে, তাদের ফোনে নেটওয়ার্কের সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছে। তবে কারো ফোনে কল করা যাচ্ছে না।

কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক দিবাগ সিং বলেন, ‘মুসল্লিদের আশপাশের মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে নিজের এলাকা ছাড়তে দেওয়া হবে না।’

গতকাল সিপিআই (এম) দলের নেতা সীতারাম ইয়েচুরি ও সিপিআই নেতা ডি. রাজাকে গতকাল শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে পুলিশ। শ্রীনগরের যাওয়ার অনুমতি না থাকায় তাঁদের আটক করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সীতারাম ইয়েচুরি টেলিফোনে গণমাধ্যমকে জানান, তাঁরা দলের নেতাকর্মীদের সাক্ষাতের জন্য শ্রীনগর গিয়েছিলেন।

শ্রীনগর থেকে বিবিসির এক সংবাদদাতা জানান, গতকালও সেখানে কারফিউ জারি ছিল। নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কাশ্মীরের মুসলমানরা নির্বিঘ্নেই ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করতে পারবে।

জাতিসংঘ বলেছে, ভারতশাসিত কাশ্মীরে সম্প্রতি যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মানবাধিকারের জন্য ক্ষতিকর। এর উদাহরণ হিসেবে জাতিসংঘের এক মুখপাত্র কাশ্মীরের টেলিযোগাযোগ বন্ধ করা, নেতাদের জোর করে আটকে রাখা এবং রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করেছেন। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য