kalerkantho

৩৭০ অনুচ্ছেদ সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছু দেয়নি : মোদি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। বিশেষ মর্যাদা হারিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। রাজ্যের মর্যাদা হারিয়ে তৈরি হচ্ছে আলাদা দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ—এমন একটি  প্রেক্ষাপট সামনে রেখেই গতকাল বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যেখানে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছুটিয়ে তিনি কাশ্মীরকে অভিহিত করেছেন ভারতের মাথার মুকুট হিসেবে। তিনি বলেছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। ফিরিয়ে দেওয়া হবে তাদের রাজ্যের মর্যাদাও। মোদি বলেন, ৩৭০ অনুচ্ছেদ এবং ৩৫এ ধারা জম্মু-কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ, পরিবারবাদ ও দুর্নীতি ছাড়া আর কিছু দেয়নি।

৪২ মিনিটের ওই ভাষণে মোদি বলেন, কাশ্মীরিদের সঙ্গে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের কড়া জবাব দেওয়া হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্তের পর  প্রেসিডেন্টের সই, রাজ্যসভা ও লোকসভায় পাস—এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো মন্তব্য করেননি মোদি। পার্লামেন্টে উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে তাঁর ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা ছিল। তবে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মৃত্যুর কারণে সেটাও হয়নি। ফলে সিদ্ধান্ত প্রকাশের তিন দিন পর কাশ্মীর প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণে মোদি বলেন, ‘একটি দেশ হিসেবে পরিবার হিসেবে আমরা একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ এবং পুরো দেশের মানুষকে অভিনন্দন জানাতে চাই।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘৩৭০ অনুচ্ছেদের জন্য জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের কী লাভ হয়েছে?’ তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, কিছু বিষয়ে কখনোই পরিবর্তন আসবে না। ৩৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাপারেও ঠিক তাই হয়েছে। কেউ এই অনুচ্ছেদের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেনি। এই অনুচ্ছেদ সন্ত্রাস আর দুর্নীতিকে উসকে দিচ্ছিল। একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল এই অনুচ্ছেদকে। এখন সব ভারতীয় সমান অধিকার ভোগ করবে। ভবিষ্যতে জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখের জন্যও এই অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’

ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে সর্দার প্যাটেল, বি আর আমবেদকর, শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং ভারতের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণ হলো।’ তিনি বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরের মেয়েরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। ভারতের আইন জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য প্রযোজ্য ছিল না। দেশের কর্মচারীদের জন্য যে আইন রয়েছে তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের কর্মচারীরা। দলিতদের অধিকার রক্ষায় সারা দেশে আইন রয়েছে, কিন্তু সেই আইন জম্মু ও কাশ্মীরে বাস্তবায়িত হয়নি।’

স্থানীয় তরুণদের চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে মোদি বলেন, জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখের সরকারি খালি পদগুলোতে শিগগির নিয়োগ শুরু হবে। বেসরকারি কম্পানিগুলোকেও কাশ্মীরে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। সরকারি চাকরির সব সুযোগ-সুবিধা কাশ্মীরিদের জন্যও নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরকে খুব বেশি সময়ের জন্য কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে রাখা হবে না। শিগগির রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে তাদের। সুশাসন ও উন্নয়নের ছোঁয়া জম্মু ও কাশ্মীরেও লাগবে। অবাধ ও মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কাশ্মীরিরা নিজেদের পছন্দের মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিতে পারবে।    

মোদি বলেন, ‘আমাদের শিশুদের যে ক্ষতি হচ্ছিল, তা আলোচনাই হচ্ছিল না। পুরো দেশের শিশুরা লেখাপড়া করার সুযোগ পেলেও কাশ্মীরের শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। জম্মু ও কাশ্মীরে সুশিক্ষার ব্যবস্থা, ভালো হাসপাতাল ও অবকাঠামোর উন্নতি করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য