kalerkantho

প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে কাশ্মীর

দোকান-বাজার-এটিএম বন্ধ প্রতিবাদ দমনে কাঁদানে গ্যাস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোয়েব কোরেশির বাড়ি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে। আইন পেশায় কাজ করেন। থাকেন দিল্লিতে। গত ২ আগস্ট বাড়ি গিয়েছিলেন। ভারত যখন কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে তখন তিনি শ্রীনগরেই ছিলেন। গত বুধবার দিল্লিতে ফিরেছেন। জানিয়েছেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। গতকাল তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার। এখানে সেটিই তুলে ধরা হলো।

‘এবার কাশ্মীরে ফেরার পর পরিস্থিতি অন্য রকম লাগছিল। অমরনাথে নাশকতার আশঙ্কা থাকলে বারামুলায় জাতীয় সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করা হবে কেন? দুটি এলাকা তো দুই দিকে। সাবধানের মার নেই ভেবে এটিএম থেকে টাকা তুলেছিলাম ৪ আগস্ট সকালে। ভাগ্যিস! দোকান-বাজার, এটিএম বন্ধ। কারফিউ চলছে। প্রত্যেকের বাড়িতেই সবজিবাগান থাকে। তা দিয়েই খাওয়াদাওয়া চলছে। অন্তত আমার বাড়িতে সেভাবেই খাবার জুটছে। পরে কী হবে, জানি না।

আমি অবশ্য বাড়ির আশপাশের খবরই জানি। অন্য কোথাও যেতে পারিনি। রাস্তাঘাট ফাঁকা। কেউ দিনে গাড়ি নিয়ে বেরোলে সেনারা আটকাচ্ছে। রাতের দিকে প্রহরা কম। লোকজন রাত ১০টার পর বাইরে যাচ্ছে এবং ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের প্রতিবাদ হচ্ছে। সেনারাও পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। ৪ আগস্ট থেকে রোজ রাতে আমার এলাকায় অন্তত তা-ই চলেছে। কোনো সহিংসতা বা গুলি চালনার ঘটনা এলাকায় ঘটেছে বলে শুনিনি। অন্যত্র কী হচ্ছে, জানার উপায়ই নেই।’

শহরে হাসপাতালসংলগ্ন ওষুধের দোকানগুলো খোলা। নার্সিংহোম, হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু যাবেন কিভাবে? যাদের গাড়ি নেই, তাদের কেউ যদি অসুস্থ হয়? অ্যাম্বুল্যান্স ডাকবেন কী করে, ফোনই তো বন্ধ! আগুন লাগলেও সেই অবস্থা। তিন দিন পরে এখন টিভিতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খবরের চ্যানেল নেই। যাদের বাড়িতে স্যাটেলাইট টিভি রয়েছে, তারাই শুধু খবরের চ্যানেল দেখতে পেয়েছে।

আজ (বুধবার) ভোর ৪টার সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিমানবন্দরে গেছি। নিজেদের গাড়িতে। রাস্তার  মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড, সেনা। এভাবে জনজীবন স্তব্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। অন্তত ফোনটুকু চালু থাকুক। যারা নিজের বাড়ি থেকে, কাশ্মীর থেকে দূরে রয়েছে, তাদের মনের অবস্থা কী ভাবুন একবার।

পথে তিনবার গাড়ি তল্লাশির পরে বিমানবন্দরের গেটের সামনে এক আত্মীয় যখন নামিয়ে দিয়ে গেলেন, তখন ভোর ৫টা। ওই গেট থেকে বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার, হেঁটেছি। বিমানবন্দরে এসে দিল্লির টিকিট কাটলাম। সাদা কাগজে স্ট্যাম্প মেরে হাতে লিখে দেওয়া হলো টিকিট। ইন্টারনেট সংযোগ নেই, টিকিটের প্রিন্ট হবে কী করে? আমার বিমানে যাত্রী ভর্তি ছিল। বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইন।

১৭ আগস্ট আমার বিয়ে করার কথা। হবু বউ কাশ্মীরেরই মেয়ে। সে কেমন আছে, জানিই না। যোগাযোগ নেই। ১০ তারিখ ফিরে যাব। জানি, এখন শ্রীনগরে ঢোকা মুশকিল। কিন্তু আমি জানি, কোন রাস্তা দিয়ে বাড়ি পৌঁছতে হবে।’

মন্তব্য