kalerkantho

তরুণদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার পেছনের কারণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের মধ্যে জঙ্গিদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করার আগে থেকেই কাশ্মীরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়। এবং ওই অঞ্চলকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

বিবিসি সংবাদদাতা কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন, যেখানে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশিত হয়। অতিরিক্ত নিরাপত্তা উঠিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমে আসবে বলে মনে করে সেখানকার বাসিন্দারা। শ্রীনগরের বাইরে কাশ্মীরের অন্যান্য অংশেও মানুষের মধ্যে একই ধরনের ক্ষোভ কাজ করছে। কিন্তু ভারতশাসিত কাশ্মীরের মানুষের মধ্যে এত তীব্র ভারতবিদ্বেষ কেন?

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের সময় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর ছিল হিন্দু রাজা হরি সিংয়ের অধীনে। দুই দেশ স্বাধীনতা লাভের পর পাকিস্তানের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাশ্মীরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তিনি ভারতের সাহায্য চান। সে সময় ভারত-পাকিস্তান প্রথম দফা যুদ্ধ হয়। কাশ্মীরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভারত দখল করে নেয়। এরপর কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ১৯৬৫ সালে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়ায় ভারত ও পাকিস্তান। ১৯৭২ সালে সিমলা চুক্তির মাধ্যমে ভারতশাসিত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের মধ্যে যুদ্ধবিরতি রেখাকে ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় দুই দেশ।

১৯৮৯ সাল থেকে কাশ্মীর উপত্যকায় ভারত শাসনের বিরুদ্ধে শুরু হয় সশস্ত্র লড়াই। কাশ্মীরের অনেক মানুষের মধ্যেই ভারতের শাসনের চেয়ে স্বাধীনতা বা পাকিস্তানের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়ার মনোভা রয়েছে।

২০১৩ সালে ভারতের পার্লামেন্টে বোমা হামলার দায়ে কাশ্মীরের এক জঙ্গি নেতা আফজাল গুরুর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর থেকে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী জঙ্গি সংগঠনগুলো সক্রিয় হতে শুরু করে। জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো ও ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে ২০১৬ সালে বুরহান ওয়ানি নামের এক জঙ্গি নেতার মৃত্যুর পর। জঙ্গিদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান তরুণদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করতে বড্ড ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়। ২০১৬ সালে লস্কর-ই-তৈয়বার কমান্ডার আবু কাসিমের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ জমায়েত হয়েছিল। হিজবুল মুজাহিদীনের নেতা বুরহান ওয়ানির শেষকৃত্যে মানুষের উপস্থিতি ছিল তাঁর চেয়েও বেশি। কাশ্মীরি কিশোরদের অনেকেই এ রকম শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হন জঙ্গিবাদে জড়ানোর। আর ৯০-এর দশকের জঙ্গিদের তুলনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কাশ্মীরের বর্তমান জঙ্গিদের গ্রহণযোগ্যতাও অনেক বেশি, রীতিমতো নায়কের মর্যাদা পান তাঁরা। কারণ বর্তমানের জঙ্গিরা সে সময়কার জঙ্গিদের মতো সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে না। তারা স্থানীয় ঝামেলায় জড়ায় না, স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমেও বাধা দেয় না বা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণের মতো কাজও করে না। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা