kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

কেন্দ্রের শাসনে কাশ্মীর

বিশাল ‘ঝুঁকি’ নিয়েছেন মোদি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশাল ‘ঝুঁকি’ নিয়েছেন মোদি

পাকিস্তানি কাশ্মীরিরা গতকাল ইসলামাবাদে বিক্ষোভ মিছিলে ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়। ছবি : এএফপি

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে রাজ্যটিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বিরাট ঝুঁকি নিয়েছেন। বিশ্লেষক ও রাজনীতিকরা বলছেন, ভারত সরকারের এ পদক্ষেপ কাশ্মীরে বিদ্রোহের আগুন নতুন করে জ্বেলে দিয়েছে, সেই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কাও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ভারত সরকার গত সোমবার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে সেখানে কেন্দ্রের শাসন জারি করে। ফলে কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দারা এত দিন সেখানে জমির মালিকানা ও কর্মসংস্থানের ব্যাপারে যে বিশেষ সুবিধা ভোগ করত, এখন তা আর বলবৎ নেই।

মোদি সরকারের দাবি, তাদের এ পদক্ষেপ অস্থিতিশীল এ ভূখণ্ডে শান্তি ও অগ্রগতি বয়ে আনবে। অথচ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সেখানে লাখ লাখ সেনা মোতায়েন করে রাখতে হয়েছে। সোমবারের ওই উদ্বেগজনক পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই কাশ্মীরে পাঁচ লাখ সেনা মোতায়েন করা ছিল। ৩৭০ ধারা বাতিলকে কেন্দ্র সেখানে আরো অনেক সেনা পাঠানো হয়। পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট, ফোন এমনকি সড়ক যোগাযোগও। ৩৭০ ধারা বাতিলের জেরে পরিস্থিতির কতটা অবনতি হতে পারে, সেটা আঁচ করতে পেরেই ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকার আটঘাট বেঁধে কাজে নেমেছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান ও কাশ্মীর বিষয়ক উপদেষ্টা এ এস দুলাত মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর ক্ষমতার নাটকীয় প্রয়োগের সফলতা নিশ্চিত করতে চাইলে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। ‘কিন্তু আমার আশঙ্কা, প্রতিক্রিয়া দেখা দেবেই এবং সহিংসতা বাড়বে’, এমনটা বলেন এই কর্মকর্তা।

কাশ্মীরে একসময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি এস হুদাও পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

এ ছাড়া ভারতশাসিত কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা জাভেদ আরো আগেই বলেছেন, ‘লোকজন এবার চুপচাপ বসে থাকবে না।’ শ্রীনগরে অবস্থানকালে তিনি আরো বলেন, ‘এসব মানুষকে আমৃত্যু বন্দি করে রাখা বাস্তবে সম্ভব নয়।’

বিজেপি মনে করে, ৩৭০ ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে একটা ঐতিহাসিক ভুল শুধরে নেওয়া হলো। কিন্তু কাশ্মীরের রাজনীতিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়া শুধু কেন্দ্রের একক সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ধারাটি বাতিল করায় বিষয়টি অনেকের মধ্যে অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আজাই সাহনি বলেন, ‘এভাবে সিদ্ধান্ত কার্যকর করায় প্রতারণা, তথ্য বিকৃতি আর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি আবার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।’

শুধু কাশ্মীরবাসীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে নয়, প্রতিবেশী পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া নিয়েও চিন্তিত বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এরই মধ্যে মন্তব্য করেছেন, কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ‘অবৈধ’ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চ্যালেঞ্জ করবেন।

১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের সময় মুসলিমপ্রধান কাশ্মীর উপত্যকা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এর পর থেকেই ভারতশাসিত কাশ্মীরে বিদ্রোহীদের তৎপরতা চলছে। পুরো কাশ্মীরের অধিকারের দাবিতে এরই মধ্যে দুই দফা যুদ্ধ করেছে ভারত ও পাকিস্তান।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কভিত্তিক ভূরাজনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক অঙ্কিত পাণ্ডে বেশ জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে আধিপত্যকারী সেনাবাহিনীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে কাশ্মীর আছে সব সময়। ফলে কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেওয়া কিংবা কাশ্মীরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে লেলিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা পাকিস্তান ঘটাতে পারে। এই বিশ্লেষক বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যদি এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তাহলে পরিস্থিতি খুব বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াবে।’

মোদি সরকারের কাশ্মীর পদক্ষেপের ফলাফল কী হতে পারে, সে সম্পর্কে ওয়াশিংটনের আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক সদানন্দ ধুমে মনে করেন, মোদির সিদ্ধান্ত পাণ্ডিত্যপূর্ণ নাকি ঐতিহাসিক ভুল, সেটা বলার সময় এখন নয়। ‘কিন্তু দুটি জিনিস পরিষ্কার—ভারত কাশ্মীরের অনুভূতিকে উপেক্ষা করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার নিহিতার্থ খুব গভীর’, এমনটা বলেন সদানন্দ। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা