kalerkantho

জম্মু কাশ্মীরে কেন্দ্রের শাসন

স্বজনদের জন্য উৎকণ্ঠায় পাকিস্তানি কাশ্মীরের শরণার্থীরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতশাসিত জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে রাজ্যটিকে কেন্দ্রের শাসনাধীন করায় সেখানে থাকা স্বজনদের জন্য ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছে পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের মুসলিম শরণার্থীরা। ভারতশাসিত কাশ্মীর গত রবিবার থেকে সব ধরনের যোগাযোগা বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের আতঙ্ক আরো বাড়ছে এই ভেবে যে আর কখনো হয়তো তাদের দেখা হবে না।

ভারত সোমবার প্রেসিডেন্টের আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে এবং এর মাধ্যমে জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খর্ব করার পাশাপাশি ওই রাজ্যকে কেন্দ্রের শাসনে নিয়ে নেয়। এ পদক্ষেপের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ভারত সরকার গত রবিবার বিকেল থেকে মুসলিমপ্রধান ওই রাজ্যে টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট এমনকি সড়ক যোগাযোগও বন্ধ করে দেয়। এতে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে জম্মু কাশ্মীরবাসী। ফলে ১৯৯০ দশকের দাঙ্গাকালে যেসব মুসলিম ভারতশাসিত অংশ থেকে পালিয়ে পাকিস্তানি কাশ্মীরে চলে যায়, তারা এখন স্বজনদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছে না।

৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলতাফ বলেন, ‘আমি জানি না কী ঘটবে। পরিবারকে নিয়ে আমার দুশ্চিন্তা হচ্ছে। তাদের কোনো খোঁজখবর পাচ্ছি না।’

খাদিজা বিবি জানান, দুই দিন আগে তাঁর বাবা মারা গেছেন। কিন্তু সে খবর বোনদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। কারো কাছে মনের দুঃখ খুলে বলতে না পারা এ নারী বলেন, ‘রাস্তা বন্ধ। সেখানে যাওয়ার কোনো উপায় আমাদের নেই। ইন্টারনেট, ফোন সব কিছু বন্ধ। কাশ্মীর যদি স্বাধীন না হয়, তাহলে এ পারে আমরা আর ওপারে তারা মারা যাবে, কিন্তু কারো সঙ্গেই কারো দেখা হবে না।’

উসমান হাশিম ১৯৯২ সালে পরিবারের সবাইকে রেখে পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে চলে যান। ভারতশাসিত কাশ্মীরে থেকে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের এখন যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় চিন্তিত তিনি। উসমান বলেন, ‘এ বিষয়ে বিশ্বের নজর দেওয়া উচিত। তাদের উচিত মানুষের জীবন রক্ষা করা। স্বাধীনতা পরেই আসুক।’

১৯৪৭ সালে মুসলিমপ্রধান কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ভারতশাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দারা স্বাধীনতার দাবিতে সশস্ত্র বিপ্লব করে যাচ্ছে। ভারত সরকারও সেখানে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সব সময় সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। দাঙ্গাকবলিত ওই ভূখণ্ড থেকে পালিয়ে পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া মুসলিমের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৩৮ হাজার। তাদের অনেকের স্বজন রয়ে গেছে ভারতশাসিত অংশে। ওই ভূখণ্ডকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেওয়ায় পাকিস্তান অংশে অবস্থানরত শরণার্থীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য