kalerkantho

কাশ্মীর ইস্যুতে ট্রাম্পই মধ্যস্থতা করবেন!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাশ্মীর ইস্যুতে ট্রাম্পই মধ্যস্থতা করবেন!

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে গতকাল নয়াদিল্লিতে বামপন্থী দলের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মীদের বিক্ষোভ। ছবি : এএফপি

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতার জন্য শেষমেষ হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রয়োজন পড়বে, এমন মন্তব্য করেছে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন। গতকাল সোমবার সংবাদমাধ্যমটি তাদের এক প্রতিবেদনে এ ধরনের মন্তব্য করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ২২ জুলাই হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকে তাঁকে জানিয়েছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাশ্মীর সংকট সমাধানে ট্রাম্পকে মধ্যস্থতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারত দ্রুতই ট্রাম্পের ওই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছিল, মোদি তাঁকে এ ধরনের কোনো অনুরোধ জানাননি। অন্যদিকে ইমরান খান হোয়াইট হাউসের বৈঠকেই ট্রাম্পকে বলেছিলেন, কাশ্মীর সংকটের সমাধান টানতে পারলে ট্রাম্প শতকোটি মানুষের প্রার্থনা পাবেন।

কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে ভারত-পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্রের এ রাশি টানাটানির মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আবার মধ্যস্থতা করার ওপর জোর দেন। এর চার দিন পর গতকাল ভারত সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করল, যা প্রচণ্ড বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গতকাল ভারত চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে এসংক্রান্ত খবর।

কাশ্মীর সংকটের বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে ডন বলছে, সমাধানের জন্য হয়তো ট্রাম্পকেই মধ্যস্ততা করতে হতে পারে। ডনের প্রতিবেদনে পাকিস্তানের প্রতি ভারতের বিরূপতার বিষয়টি তুলে ধরে আরো বলা হয়, আফগানিস্তানে শান্তিপ্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ইতিবাচক ভূমিকা ভারতকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগা মাধ্যমেও আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে ডন বলে, পাকিস্তানের এ ভূমিকায় ভারত এখন এ অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব হ্রাসের ভয়ে শঙ্কিত হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে অনেকটা এগিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে ভারত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খর্ব করার মতো এমন গুরুতর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ডন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোনো কোনো পোস্টে মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল মার্ক এ মিলির কংগ্রেসে এক শুনানিকালের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। মার্কিন সেনাপ্রধান মিলি ওই শুনানিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। না বললেই নয়, পাকিস্তানের ব্যবহৃত এফ ১৬ জঙ্গিবিমান সংস্কারকাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সমঝোতা হয়েছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে এমন অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে কাশ্মীর ইস্যুতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে ডন।

 

মন্তব্য