kalerkantho

হংকংয়ে ধর্মঘট, শতাধিক ফ্লাইট বাতিল

বিপজ্জনক পরিস্থিতির শঙ্কা ক্যারি লামের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হংকংয়ে ধর্মঘট, শতাধিক ফ্লাইট বাতিল

গণতন্ত্র সমর্থক বিক্ষোভকারীদের ডাকে গতকাল সোমবার হংকংয়ে ধর্মঘট পালিত হয়েছে। ধর্মঘটের ডাকে সাড়া দিয়ে যানবাহন চলাচল না করায় শহরজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। দোকানপাটও বন্ধ ছিল। ধর্মঘটের কারণে গতকাল এক শর বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এদিন টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম এই বাণিজ্যকেন্দ্র অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির শঙ্কায় পড়েছে।

অপরাধীদের চীনে হস্তান্তরের সুযোগ রেখে আনা বিলকে কেন্দ্র করে জুন মাসে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখনো চলছে। গতকাল ওং টাই সিনে সাধারণ ধর্মঘটের পর পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যায়। ধর্মঘটের আগের দিন রবিবার বিক্ষোভকারীরা চীন কর্তৃপক্ষের সরাসরি বিরোধিতা করে সমাবেশ করেছে। এত সব সত্ত্বেও প্রধান নির্বাহী ক্যালি লাম বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের দাবির কাছে আমি মাথা নত করব না। তারা হংকংয়ের আইন-শৃঙ্খলাকে খাটো করে দেখছে। তারা হংকংকে পিছিয়ে দিচ্ছে। এই শহরকে আমরা ভালোবাসি এবং আমাদের অনেকেই এই শহরকে গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। কিন্তু এই শহর এখন খুবই বিপজ্জনক অবস্থার কাছে পৌঁছে গেছে। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, তারা হংকংকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।’

গতকাল সকালে ব্যস্ত সময়ে ধর্মঘট সমর্থকরা রেল চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে লাখ লাখ মানুষ আটকা পড়ে। বিকেলে তারা একই সঙ্গে সাতটি সমাবেশ করে। এর মধ্যে অন্তত দুটি সমাবেশে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পুলিশ সবচেয়ে বেশি কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ওং টাই সিনে। গত সপ্তাহে এখানকার স্থানীয় অধিবাসী এবং বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডিক্সন ওং বলেন, ‘রাজনৈতিক ধর্মঘটে এদিনের সমর্থন অনেক বেশি মনে হয়েছে। এটি পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে উদ্দীপকের কাজ করেছে।’

ধর্মঘটের কারণে গতকাল সকালেই এক শর বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে দেড় শতাধিক ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় ছিল। কী কারণে ফাইট বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টস ইউনিয়ন ফেসবুকে পেজে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গত ৫০ দিনেরও বেশি সময় সরকার জনগণের দাবি উপেক্ষা করে যাচ্ছে এবং তাদের কণ্ঠরোধের জন্য পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করছে। এসব কারণে অসংখ্য মানুষ হতাশায় ডুবছে।’

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য