kalerkantho

টেক্সাস-ওহাইও এখনো সুনসান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পৃথক বন্দুক হামলায় ২৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় এক রকম সুনসান অবস্থা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও এবং টেক্সাস অঙ্গরাজ্য। টেক্সাসের ওয়ালমার্ট শপিং মলে যাদের প্রতি ঘৃণা থেকে হামলাটি চালানো হয়েছে, সেই হিস্পানিকরা বলছেন, পুরো ঘটনাটি তাঁরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না। অন্যদিকে ওহাইওর ডেটন শহরে বন্দুকধারীর হামলায় যে ৯ জন নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে হামলাকারী কোননোর বেটসের বোনও রয়েছেন।

মেক্সিকো সীমান্তবর্তী টেক্সাসের এল পাসো শহরে হামলাটি হয় শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। শহরের ওয়ালমার্ট শপিং মলে নির্বিচারে গুলি চালায় ২১ বছর বয়সী প্যাট্রিক ক্রুসিয়াস। একই অঙ্গরাজ্যের ডালাসের উপকণ্ঠের অ্যালেন এলাকার বাসিন্দা ক্রুসিয়াসের বন্দুকে গুলিতে নিহত হয় ২০ জন।

টেক্সাসের হামলার ঘটনাটিকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে ধরে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। হামলার ঘটনাস্থল থেকে আটক ২১ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ যুবক প্যাট্রিক ক্রুসিয়াসের বিরুদ্ধে প্রথম ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে বিচারে সে দোষী সাব্যস্ত হলে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

ওই হামলার পর এল পাসোর বাসিন্দাদের মন থেকে আতঙ্ক দূর হচ্ছে না। ইভোনে দিয়াজ নামের এক নারী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘হিস্পানিক হওয়ার কারণে হামলার শিকার হতে পারি, এমন ভয় আমার মধ্যে কখনো ছিল না। যা ঘটে গেল, তা বিশ্বাস করতে এখনো আমার কষ্ট হচ্ছে।’

কারলা কারাম নামের এক ট্যাক্সিচালক বলছিলেন, ‘হতাহতদের তালিকা দেখে খুবই আঘাত পেয়েছি। এদের প্রত্যেকেই পরিচিত। আমরা সবাই একে অন্যকে চিনি।’

সিনথিয়া শাভেজ নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, সন্তানদের কাছে এ ঘটনার কী ব্যাখ্যা দেব। সত্যি বলতে কি, এই শহরে মানুষ এতটাই উদার যে, অপরিচিত কাউকেও তারা বুকে তুলে নেয়।’

ঘটনার দিন সকালে স্বামী-সন্তানের সঙ্গে ওয়ালমার্টের দিকে যাচ্ছিলেন ৩০ বছর বয়সী ড্যানিয়েলে নোভোয়া। হামলার সময় ৩০ মিনিটের দূরত্বে ছিলেন তারা। নোভোয়া বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আর যেই হোক, কোনো হিস্পানিক এ হামলা চালাবে না। কারণ আমাদের কেউ এ ধরনের মানসিকতা লালন করে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এত দিন আমরা নিশ্চিন্তে বাইরে ঘুরে বেড়াতাম। এখন মনে হয় আর সম্ভব নয়।’

নোভোয়ার স্বামী জুলিও নোভোয়া বলেন, ‘ঐক্য এবং বৈচিত্র্য বলতে যা বোঝায়, আমরা তাই। আর এ কারণেই আমাদের ওপর হামলা হয়েছে।’

এদিকে ওহাইওর ডেটন শহরে কোননোর বেটসের বন্দুকের গুলি থেকে রক্ষা পাননি তার বোন মেগান বেটসও (২২)। ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে ৯ জনের প্রাণ কেড়ে নেয় বেটস।

ডেটনের পুলিশপ্রধান রিচার্ড বিয়েল বলেন, জনাকীর্ণ একটি পানশালা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ২৪ বছর বয়সী বেটস। সে গুলি ছোড়ে জানালা দিয়ে। তাতে আহত হয় অন্তত ২৭ জন।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। তার কাছে আরো গোলাবারুদ ছিল। তবে সেগুলো ব্যবহারের আগেই পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হয় বেটস। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য