kalerkantho

যেসব কারণে নিউজিল্যান্ডকে অনুসরণ সম্ভব নয় যুক্তরাষ্ট্রের

বন্দুক আইন সংস্কার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার ছয় দিনের মাথায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন সামরিক ধাঁচের আধাস্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিষিদ্ধ করেন। তাঁর তড়িত্গতিতে নেওয়া এ ব্যবস্থা একই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপারগতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। নিউজিল্যান্ডে ঘটনা ঘটেছে একটি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেই চলেছে। যার সহজ শিকার হচ্ছে একেবারেই নিরপরাধ কিছু মানুষ। কিন্তু অস্ত্র আইন নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কোনো উদ্যোগ গত কয়েক বছরের মধ্যে চোখে পড়েনি দেশটিতে।

বিষয়টি নিয়ে চালানো সমীক্ষায় দেখা গেছে, মানুষ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন চায়। আধাস্বয়ংক্রিয় অস্ত্র সংস্কার নিষিদ্ধ করে একটি আইন জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে বলা হয়েছে যে ব্যক্তি অস্ত্র কিনবে তার অতীত খুঁটিয়ে দেখার কথাও। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের উদ্যোগ এর মধ্যেই সীমিত। সমন্বিত আইন তৈরির প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন; অস্ত্র লবিকে থোড়াই কেয়ার করেন এমন দম্ভও দেখিয়েছেন। তবে তাঁর তৎপরতা মুখের ওই বুলিটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

নিউজিল্যান্ডের এত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারার প্রধান কারণ, দেশটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত। এক দল বা সমমনা দলগুলোর জোট সরকার চালায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণ শুধু এই একটি অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন বা এনআরএ। এই সংগঠন রাজনীতিকদের পেছনে অর্থ ঢালার পাশাপাশি তাদের ৫০ লাখ সদস্যের প্রভাবকেও কাজে লাগায়।

এই সংগঠনের ভূমিকার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন পাস প্রায় অসম্ভব। ফেডারেল বা রাজ্য পর্যায়ে একই ধরনের প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা রয়েছে তাদের। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসাতে তারা ব্যয় করে তিন কোটি ডলার। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাকি রাজনীতিকদের পেছনেও তাদের বিনিয়োগ ছিল। এই সংগঠনটি বছরে শিক্ষা প্রকল্প, বন্দুক প্রদর্শনী, সদস্যদের নিয়ে করা নানা অনুষ্ঠান, আইনি সহায়তা এবং এ জাতীয় নানা তৎপরতায় ২৫ কোটি ডলার খরচ করে।

ওয়াশিংটনে এনআরএকে রীতিমতো একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে, এনআরএ শক্তিশালী রাজনীতিক গড়তে বা কাউকে আঁস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলার ক্ষমতা রাখে। রাজনীতিকদের গ্রেড নির্ধারণ করে তারা সে হিসেবে তাঁদের আর্থিক ও সাংগঠনিক সুবিধা দেয়। ফলে ট্রাম্প যতই মুখে বলুন যে তিনি এনআরএকে ভয় পান না, বাস্তবিক অর্থে তাঁকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপও নিতে দেখা যায় না।

গত বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাউস এখনো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে রিপাবলিকানদের দিকেই ঝুঁকে আছে। বহু ডেমোক্র্যাট এ বিষয়ে এখনো রিপাবলিকানদের সঙ্গেই হাত মিলিয়ে চলতে চান।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে এ অধিকার দেওয়া হয় মার্কিন নাগরিকদের। যখনই যুক্তরাষ্ট্রে গত শনিবারের মতো মাস শ্যুটিংয়ের ঘটনা ঘটে তখনই এনআরএ এবং অস্ত্র আইনের সমর্থক রাজনীতিকরা সুনির্দিষ্ট একটি পদ্ধতিতে এগোয়—শোকবার্তা, অর্ধনমিত পতাকা আর নীরবতা। সময় পার হয়। অস্ত্র আইন সংস্কার নিয়ে ওঠা ঝড় থিতিয়ে আসে, একসময় মারা যায়। টিকে যায় অস্ত্র আইন। খুব সম্ভবত এ নাকটটিই আবারও মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি।

 

মন্তব্য