kalerkantho

বন্দুক হামলায় রক্তাক্ত টেক্সাস ও ওহাইও, নিহত ২৯

টেক্সাসে হামলার মূলে হিস্পানিকদের প্রতি ঘৃণা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্দুক হামলায় রক্তাক্ত টেক্সাস ও ওহাইও, নিহত ২৯

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সীমান্ত দেয়াল বরাবর দাঁড়িয়ে গত শনিবার রাতে মোবাইল ফোনের আলো জ্বেলে ওহাইও ও টেক্সাসে ম্যাস শ্যুটিংয়ের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে সাধারণ মানুষ। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে দুটি বন্দুক হামলায় ২৯ জন নিহত হয়েছে। ওহাইওতে হামলার ঘটনা ঘটেছে স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টায়। আর টেক্সাসে হামলা হয়েছে এদিন সকাল সাড়ে ১০টায়। টেক্সাসে হামলাকারীর পরিচয় এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটন শহরের ওরেগন এলাকায় একটি বারে বন্দুক হামলায় ৯ জন নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ১৬ জন। ওই এলাকায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের তৎপরতায় সহিংসতা আরো ছড়িয়ে পড়ার আগেই পুলিশের গুলিতে নিহত হয় বন্দুকধারী। পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে।

পুলিশ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল ম্যাট কার্পার জানান, ডেটন শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওরেগন এলাকা ‘খুবই নিরাপদ’। ঘটনার সময় খুব কাছাকাছি বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁদের তৎপরতায় বন্দুকধারীকে দ্রুত ধরাশায়ী করা হয়। হামলাটি ‘অত্যন্ত বেদনায়ক’ মন্তব্য করে তিনি জানান, এ ঘটনার তদন্তের প্রয়োজনে তাঁরা সব কিছু করছেন এবং হামলার কারণ খতিয়ে দেখছেন।

আহতদের ব্যাপারে পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ লোকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেনি।

ওহাইওর মর্মান্তিকতার ১৫ ঘণ্টা আগে মেক্সিকোর সীমান্ত লাগোয়া টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এল পাসো শহরে ওয়ালমার্ট শপিং মলে বন্দুক হামলায় ২০ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন মেক্সিকান রয়েছে বলে জানান মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস মানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর। এ ছাড়া মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এব্রারদ টুইটারে জানান, আহতদের মধ্যে ছয়জন মেক্সিকান রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, হতাহতদের বয়স দুই থেকে শুরু করে ৮২ বছর পর্যন্ত। হামলার সময় ওয়ালমার্ট ক্রেতায় পরিপূর্ণ ছিল এবং বন্দুকধারী নির্বিচার হামলা চালিয়েছে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। ফলে এ ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে একেবারে শিশু থেকে শুরু করে অশীতিপর বৃদ্ধও রয়েছে।

হামলাকারী ২১ বছর বয়সী প্যাট্রিক ক্রুসিয়াস ঘটনাস্থল থেকে এক ব্লক দূরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। সে একই অঙ্গরাজ্যের ডালাসের উপকণ্ঠে অ্যালেন এলাকার বাসিন্দা। হিস্প্যানিকদের প্রতি ঘৃণা থেকে সে এ হামলা করে থাকতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে।

বলা দরকার, যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি অনুসারে টেক্সাসের এল পাসো কাউন্টির জনসংখ্যা ছয় লাখ ৮০ হাজার, যার ৮৩ শতাংশই হিস্প্যানিক বংশোদ্ভূত।

পুলিশপ্রধান গ্রেগ অ্যালেন জানান, হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ তরুণের কাছ থেকে উদ্ধার করা ইশতেহারের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ওই ইশতেহারে হিস্প্যানিকদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা হয়েছে। ইশতেহারে হামলকারী লিখেছে, টেক্সাসে ‘হিস্প্যানিকদের অনুপ্রবেশের’ জবাবে এ হামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডে গত মার্চে মসজিদে বন্দুক হামলায় ৫১ জনকে মেরে ফেলার ঘটনা উল্লেখ করে ইশতেহারে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশের কারণে সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক পরিবর্তন থেকে দেশকে রক্ষায় এ হামলা করা হয়েছে।

হামলায় ওই তরুণ একে৪৭ রাইফেল ব্যবহার করেছে এবং ইশতেহারে এ অস্ত্রের ব্যাপারেও অভিযোগ করেছে। তার অভিযোগ, এ রাইফেল দিয়ে দ্রুত গুলি করা যায় না এবং ১০০টা গুলি চালাতে চালাতেই অস্ত্রটি ভীষণ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাই এ অস্ত্র ব্যবহারের আগে তাকে তাপনিরোধক দস্তানা পরতে হয়েছে। হামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে সে ইশতেহারে জানায়, প্রস্তুতির জন্য সে এক মাসেরও কম সময় নিয়েছে। হামলাকালে তার মৃত্যু ‘অনিবার্য’ উল্লেখ করে সে লিখেছে, ‘পুলিশের হাতে যদি আমার মৃত্যু না-ও হয়, তবে আমি সম্ভবত অনুপ্রবেশকারী কোনো একজনের গুলিতে মারা যাব।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ হামলাকে কাপুরুষোচিত অ্যাখ্যা দিয়ে টুইটারে লিখেছেন, ‘নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা কোনো কারণেই ন্যায়সংগত হতে পারে না।’

যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে চারটি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটল। গত মঙ্গলবার মিসিসিপিতে চেন শপিং মল ওয়ালমার্টের একটি শাখায় হামলায় দুজন সাধারণ মানুষ ও একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 

মন্তব্য